জামায়াতে ইসলাম এই দেশটাকে আফগানিস্থানে পরিণত করতে চায় মন্তব্য করে এবং জামায়াত দেশের অগ্রগতির অন্তরায় উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “এই দলটি বাংলাদেশকে পিছনের দিকে নিতে চায়।
আমরা পেছনে যেতে চাই না, আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। নারী-পুরুষ সবাইকে সমান অধিকার নিয়ে বাঁচতে হবে। আমাদের দেশে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি তাদের বাদ দিয়ে দেশ এগোতে পারে না।”
তিনি সোমবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের কর্মসংস্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। “তারা নারীদের ঘরে বসে থাকতে বলে। গার্মেন্টসে কর্মরত নারীদের নাকি পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে দেবে না। তাহলে নারীরা কাজ না করলে খাবে কী ? সরকার টাকা দেবে এই কথা সম্পূর্ণ বাটপারি। কাজ না করলে কোনো সরকারই টাকা দেবে না।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াত মানুষকে বিভ্রান্ত করে বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি মানুষ বেহেশতে যাবে। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করছে।”
নির্বাচনে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ভোটারদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, “অনেকে হুমকি দিচ্ছে যে তুমি ধানের শীষের কথা বলবানা। এরকম কথা কেউ বললে, আপনারা আমাকে জানাবেন, আমরা সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সরকার পরিষ্কারভাবে বলেছে, এই নির্বাচনে কাউকে ভয় দেখানো যাবে না। করলে ক্রিমিনাল অ্যাক্টে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মির্জা ফখরুল আরও অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত নারীদের কাজ করতে দিতে চায় না, তারা চায় মেয়েরা যেন ঘরে বসে থাকে। এ সময় জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক এক ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) পোস্টের বিষয়ে তিনি বলেন, আমীর যদি নারীবিদ্বেষী এমন মন্তব্য করে থাকেন, তবে তিনি অন্যায় করেছেন।
সম্প্রীতির ঠাকুরগাঁও গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “সনাতনী ও হিন্দু ভাই-বোনসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে আমরা একটি মডেল ও সম্প্রীতির ঠাকুরগাঁও গড়তে চাই। এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, সবাই একসাথে কাজ করবে।”
উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এসময় জেলা ও উপজেলা বিএনপিসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অসংখ্য নারীসহ পুরুষ ভোটার উপস্থিত ছিলেন।