পার্ত্য বান্দরবানের লামা উপজেলার ২৮৫ নং সাঙ্গু মৌজায় বনপ্রাণী অভয়ারন্য নামে ৫৭৬০ একর ভূমি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণার আদেশ বাতিল ও ১৩টি পাড়াসহ মৌজাবাসীকে উচ্ছেদ থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাঙ্গু মৌজাবাসীরা।
বুধবার দুপুরে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন বাতিল করার দাবিতে সাঙ্গু মৌাজার ছোট-বড়, নারী-পুরুষ মিলে প্রায় তিনশো মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন।
মানববন্ধনে মৌজার হেডম্যান চম্পট ম্রো’র সভাপতিত্বে বক্তব্য প্রদান করেন হেডম্যান হ্লা থোয়াই হ্রী, সচেতন ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি পানোওয়াম ম্রো, উক্যমং মারমাসহ আরো অনেকেই।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি পরে ভূমিদস্যুদের দাপট কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন নিরাপদে বসবাস করে আসছে। কিন্তু এই নিরাপদেও শান্তিতে থাকার সময়ে এখন বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য তৎপরতায় মানুষের মধ্যে উচ্ছেদের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সাঙ্গু মৌজার বনপ্রাণী অভয়ারন্য নামে ৫৭৬০ একর ভূমি সংরক্ষিত বন হিসাবে প্রজ্ঞাপন জারীর করা হয়েছে তা বাতিল করার জোর দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
হেডম্যান হ্লা থোয়াই হ্রী তার বক্তব্যে বলেন, সাঙ্গু মৌজার বন্যপ্রাণী অভয়ারন্য নামে ৫৭৬০ একর ভূমি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে তা যুক্তিযুক্ত নয়। যেখানে শত-শত জনবসতি রয়েছে, সেখানে এমন প্রজ্ঞাপন জারি করতে কোনো আইন মানা হয়নি। পাহাড়ে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের নীলনকশা তৈরী করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে যাঁরা জুমচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে তাদের কথা না ভেবে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে।
২৮৫ নং সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান চম্পট ম্রো বক্তব্যে বলেন, আমার মৌজায় পাহাড়ি বাঙ্গালি সবাই বসবাসরত আছেন। বন বিভাগের ঘোষিত ৫৭৬০ একরে ১৫টি পাড়া রয়েছে। সরকার আইন করে মানুষের উপকারের জন্য, মানুষের সুবিধার জন্য। বন বিভাগের মাধ্যমে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করেছে। এতে এলাকাবাসীর কোনো উপকারে আসবে না।
উল্লেখ, লামা উপজেলার ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২৮৫নং সাঙ্গু মৌজার গত ৬ এপ্রিল, ২০১০ তারিখে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় বন অধিশাখা-২ কর্তৃক সাঙ্গু মৌজায় বনপ্রাণী অভয়ারন্য নামে ৫৭৬০ একর ভূমি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল।