হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জামালপুরের জনজীবন। টানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর, শিশু ও বয়স্করা। মাঝে মধ্যে সূর্যের দেখা মিললেও তাপমাত্রা বাড়ছে না। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক অসহায় মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সন্ধ্যার পর থেকে পুরো জেলা ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। পৌষের শেষ প্রহরে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। বেলা ১২টা পর্যন্ত কুয়াশা থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সকালে কাজের সন্ধানে বের হওয়াই তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষকে খড়-কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে।
রেলস্টেশনে আগুন পোহানো দিনমজুর আলাউদ্দিন বলেন, এই ঠান্ডায় কাজ না করলে খাওয়াই মুশকিল। আগের মতো এখন আর কম্বল পাওয়া যায় না, ভ্যানচালক ফজলুল হক জানান, শীতের কারণে যাত্রী কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের ফুটপাতের কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। জামালপুর শহরের চামড়া গুদাম ও গেটপাড় এলাকায় কম দামে জ্যাকেট, সোয়েটার, চাদর ও কম্বল বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ এসব দোকানে ভিড় করছেন।
ফুটপাতের এক বিক্রেতা জানান, নামি দোকানের ২–৩ হাজার টাকার জ্যাকেট এখানে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, কম দামে ভালো শীতবস্ত্র পাওয়ায় ফুটপাতই এখন তাদের প্রধান ভরসা।
তবে শীতের তীব্রতা বাড়লেও শীতবস্ত্র বিতরণ এখনও পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। অনেক অসহায় মানুষকে শীতবস্ত্র ছাড়াই রাত কাটাতে দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলার ইউএনও নাজনীন আখতার জানান, কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।