ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে ভারত সমর্থন করে আসছে এবং সেই সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে ঢাকায় ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যৌথ ত্যাগের মধ্য দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলার প্রতি দুই দেশের অভিন্ন ভালোবাসা এই বন্ধনকে আরও গভীর করেছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মতো মনীষীদের রচনা থেকে শুরু করে নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য—সবকিছু মিলিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সান্নিধ্য বিদ্যমান।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংযুক্তি ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ার ফলে দুই দেশের পারস্পরিক আদান-প্রদান ও নির্ভরশীলতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এর সুফল সমাজ, জনগণ এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরে প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারতীয় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল পরিবহনের জন্য আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন এবং ভারত ও নেপাল থেকে ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির মতো উদ্যোগগুলো আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতিকে এগিয়ে নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সরবরাহ শৃঙ্খল বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে শক্তিশালী করছে। এসব উদাহরণ পারস্পরিক সহযোগিতা ও নির্ভরশীলতার সুফলকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভবিষ্যতে এই সাফল্যগুলো আরও দূরদর্শী ও ভবিষ্যত-প্রস্তুত সহযোগিতার পথ খুঁজে পেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে—যা সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও অংশীদারিত্বের যৌথ আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, বিশ্বাস, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পারস্পরিক স্বার্থ, সুবিধা ও সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই সহযোগিতা টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
প্রণয় ভার্মা বলেন, তরুণ, দক্ষ ও উদ্ভাবনী জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে পরিচালিত দুটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক হয়ে উঠতে পারে। একসঙ্গে আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল, যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও জ্বালানি করিডোর গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ একযোগে কাজ করতে পারে। ভৌগোলিক নৈকট্যকে নতুন সম্ভাবনায় রূপান্তরের মাধ্যমে পুরো অঞ্চল উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বক্তব্য দেন।
আরএস-রাসেল