মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার পুরান বাউশিয়া গ্রামের এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমি হস্তান্তরের দলিল সম্পাদনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অভিযোগটি ইতোমধ্যে জেলা রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পুরান বাউশিয়া গ্রামের আরএস রেকর্ডীয় সম্পত্তির মালিক সূর্য্যবান জীবদ্দশায় ১৯৯১ সালের ২৮ এপ্রিল নিবন্ধিত হেবা দলিলের মাধ্যমে তার তিন পুত্রের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যু সনদ দ্বারা প্রমাণিত বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সূর্য্যবানের মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর ২০১১ সালে ১৯০৫/২০১১ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তাকে জীবিত দেখিয়ে একটি কোম্পানির অনুকূলে দলিল সম্পাদন করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুনামহানির শিকার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গজারিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক হাফেজ আহাম্মদ প্রধান এবং তার অধীনস্থ এক জুনিয়র দলিল লেখক মোঃ রেফায়পত উল্লার সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হলে কথিত জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
স্থানীয়দের মতে, অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ও জালিয়াতি নিয়ে জনমনে থাকা নানা প্রশ্নেরও জবাব মিলবে।