ময়মনসিংহ থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুর পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও মুক্তাগাছা বাইপাস সড়কের মাত্র ৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার অংশের কাজ দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
দুই দফা সময় বৃদ্ধি করেও কাজ শেষ না হওয়ায় পুরো মহাসড়ক প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে প্রতিদিন যানজট, ধুলাবালি ও দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো যানবাহন ও যাত্রীকে।
স্থানীয়রা বলছেন, ময়মনসিংহ থেকে টাঙ্গাইল, জামালপুরসহ উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন যাতে মুক্তাগাছা পৌর শহরের তীব্র যানজট এড়িয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই বাইপাস সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা ও ধীরগতির কারণে প্রকল্পটি এখন এলাকাবাসীর হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাইপাস সড়কের কোথাও পিচঢালাই সম্পন্ন হয়েছে, কোথাও ফেলে রাখা হয়েছে বালু ও ইটের খোয়া, আবার কোথাও এখনও বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠের মতো পড়ে আছে নির্মাণাধীন এলাকা। ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মুক্তাগাছা বাইপাস অংশের এমন বেহাল চিত্র চোখে পড়ে।
জানা গেছে, মুক্তাগাছা উপজেলার কুমারগাতা ইউনিয়নের সত্রাশিয়া এলাকা থেকে বাঁশাটি ইউনিয়নের ভাবকীর মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে ভাবকীর মোড় থেকে লাঙ্গুলিয়া হয়ে চরবগুড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
এছাড়া একই প্রকল্পের আওতায় মধুপুর-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়কের ভাবকীর মোড় থেকে ল্যাংড়ার বাজার পর্যন্ত আরও ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কের কাজও শেষ হয়নি। ফলে পুরো মহাসড়ক ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না যাত্রীরা। বিশেষ করে মুক্তাগাছা পৌর শহরে যানজটের ভোগান্তি আগের মতোই রয়ে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন চালক ও যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চলায় সড়কে ধুলাবালি ও খানাখন্দের কারণে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ মহানগরীর জিরো পয়েন্ট থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুর পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের ১ জুলাই। ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণসহ নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ৩০ জুন।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এবং পরে দ্বিতীয় দফায় ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এরপরও বাইপাস সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি, বিটুমিনসহ নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে আরও এক দফা সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে। তারা ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার অরুণ কুমার দেবনাথ বলেন, “নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ও অতিবর্ষণের কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাইপাস সড়কের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার জিয়াউল হক বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শেষবারের মতো ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। এর মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে দ্রুত বাইপাস সড়কের কাজ শেষ করে যানজটমুক্ত আধুনিক মহাসড়ক চালুর দাবি জানিয়েছেন মুক্তাগাছাবাসী। তাদের আশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হবে এবং উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।