পার্বত্য বান্দরবানে কুকি চীন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ও শান্তি এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি। গত ২৯মে বান্দরবান পার্বত্যা জেলা পরিষদের উদ্যোগে অরুন সারকি টাউন হলে এক মন বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা নেতৃত্বে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। যা শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি নামকরন করা হয়।
এ দিকে গতকাল বুধবার সকাল ১১ টায় পার্বত্য জেলা পরিষদের সভাকক্ষে চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা সভাপতিত্বে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রেস বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে জানা যায়, কমিটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে পার্বত্য বান্দরবান জেলার শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিরসন এবং কেএনএ সদস্যদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া। কেএনএ’র সকল সদস্যকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এবং কেএনএ এর সাথে সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
সম্প্রতি সময়ে সংঘটিত ঘটনাবলীর কারণে যে সমস্ত কারণে যেসব এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে সেসব এলাকায় খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা সহ পূর্নবাসনের উদ্যোগ নেয়া।
তাছাড়াও কমিটির কর্মপরিকল্পনা হিসেবে সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে এক কর্ম পরিকল্পনার প্রস্তুতি বিষয় তিনি জানান, ২৩ জুন কমিটির শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী সহ সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় সাধন করা।
২৩ জুন হতে ২৩ আগস্ট মধ্যে একটি লিঁয়াজো কমিটি গঠনের মাধ্যমে কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মিদের সাথে জড়িত সদস্যদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া ও শান্তি কমিটিসহ উভয়পক্ষের নিরাপত্তা বিষয় প্রদান করবেন।
এ সময় কমিটিতে আহবায়ক পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, মুখপাত্র জেলা পরিষদ সদস্য কাঞ্চনজয় তঞ্চগ্যা, সদস্য হিসেবে সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনু, এডভোকেট বাসিংথুয়াই, সদস্য সচিব বম সোশ্যাল কাউসিন্সলের সভাপতি লালজারলম বম, বম সোশ্যাল কাউসিন্সলের ধর্মীয় গুরু ও উপদেষ্টা রেভা: পাকসিমবয়ৎলুং, ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিলের উপদেষ্টা সিংইয়ং ম্রো, ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি রাংলাই ম্রো, বাংলাদেশ খুমী কল্যাণ এসোসিয়শন ও জেলা পরিষদ সদস্য সিঅং খুমী, বাংলাদেশ খুমী কল্যাণ এসোসিয়েশন ও সমাজকর্মী লেলুং খুমী, বাংলাদেশ নারমা এসোসিয়েশন সভাপতি মংচিংনু মারমা, খিয়াং জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ম্রাসা খিয়াং, মানিক খিয়াং, ত্রিপুরা প্রতিনিধি কৃপা ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ত্রিপুরা যুব কল্যাণ সংসদ সভাপতি রামবাদু ত্রিপুরা, প্রথম আলো পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ও চাকমা প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমা ও তঞ্চগ্যা প্রতিনিধি সমকাল পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি উজ্জল তঞ্চগ্যা ১৮ জনের নাম প্রকাশ করা হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আহবায়ক ক্যশৈহ্লা বলেন, আমরা কমিটির সকল সদস্যদের নিয়ে আবারো বৈঠকের আয়োজন করবো। পরবর্তীতে আরো আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে৷ যা সিদ্ধান্তগুলো সাংবাদিকদের জানানো হবে।
এ সময় জেলার সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সাল থেকে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বম সম্প্রদায়ের কিছু বিপথগামী যুবক কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামে একটি সশস্ত্র সংগঠন গড়ে তোলে আর পরবর্তীতে তাদের আশ্রয়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণে যুক্ত হয় সমতল থেকে আসা নব্য জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার বেশ কিছু সদস্য। এদিকে তাদের নির্মূলে ২০২২ সালের অক্টোবর মাস থেকে পাহাড়ে অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।