উপজেলা রিসোর্স টিম (ইউআরটি) সদস্যদের অংশগ্রহণে গ্রাম আদালত বিষয়ক দিনব্যাপী রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী।
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে জাজান, গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা গ্রাম আদালত আইন-২০০৬ সম্পর্কে আরও গভীর জ্ঞান অর্জন করবেন এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি করবেন। তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিংয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
আমাদের দেশে দিনদিন আদালতে মামলা বাড়তেই আছে কিন্তু সমাধান খুব কম হচ্ছে। তাই আদালতে মামলা করার আগে স্থানীয় পর্যায়ে নিস্পত্তি করার চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে গ্ৰাম আদালত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। গ্ৰাম আদালতে খুব সহজেই মামলা দ্রুত নিস্পত্তির সুযোগ থাকে। অন্যক্ষেত্রে কোর্টের মামলা গুলো নিস্পত্তি করতে দেরী হয়ে যায়। গ্ৰাম আদালতকে আরো গতিশীল করতে উপজেলা রিসোর্স টিম (ইউআরটি) সদস্যদের ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রশিক্ষণের সভাপতি ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ষোষ বলেন, গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় অংশগ্রহণকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে গ্রাম আদালতের বিচার কার্যক্রম পরিচালনা, মামলার গ্রহণযোগ্যতা, গ্রাম আদালত আইন-২০০৬, সংশোধিত আইন-২০২৪ এবং গ্রাম আদালত বিধিমালা-২০১৬ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সহকারী কমিশনার (স্থানীয় সরকার) এ মোঃ সাব্বির আহমেদ রোবেল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার অফিসার ইনচার্জ, সমাজসেবা কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জন অংশগ্রহণ করেন।