বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মুন্সীগঞ্জপ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৭ মুকসুদপুরে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন নান্দাইলে প্রবাসী সমাজ কল্যাণ পরিষদের নতুন অফিসের শুভ উদ্বোধন মতলব উত্তরে অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুকন্যা আয়াতের মৃত্যু মাদারগঞ্জে মত বিনিময় সভা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা সরিষাবাড়ীতে প্রবাসীর ঘরে ঢুকে যুবকের আত্মহত্যা খুলনায় টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের ঈদ পুনর্মিলনী ও নির্বাচনী সভা অপো এ সিরিজকে নম্বর ১ স্মুথনেস, ব্যাটারি লাইফ ও ডিউরেবিলিটির স্বীকৃতি দিলো বুয়েট রাজাপুরে চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবক’কে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ নবনিযুক্ত এএসপির সাথে আনোয়ারা কৃষক দলের সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাবার দেখানো পথেই হাঁটছেন: এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ঢাকা-ভাঙ্গা মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত ৫ মতলব উত্তরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ অনুষ্ঠিত মতলব উত্তরে মাদক-বাল্যবিবাহ-কিশোর গ্যাং বিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক মামলায় মাসের পর মাস আত্মগোপনে ছিলাম, অংশ নিতে পারিনি মা’য়ের জানাযায় নগরকান্দার এম এন একাডেমী এসএসসি ২০১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত মুক্তাগাছা বাইপাস সড়কের কাজ শেষ হতে ফের বিলম্ব, দুর্ভোগে যাত্রী ও এলাকাবাসী ঠাকুরগাঁওয়ে হিট স্ট্রোকে ব্যবসায়ীর মৃত্যু বিএনপি শুধু প্রতিশ্রুতি দেয় না, তা বাস্তবায়নে বিশ্বাস করে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার গাজীপুর বিশেষ চেকপোস্ট, মোটরসাইকেলে কড়াকড়ি নজরদারি মুন্সীগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মুন্সীগঞ্জে বিএনপি কার্যালয় ও বসতঘর ভাঙচুর বৈশ্বিক কারণে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে ইউনেস্কোর ‘ম্যান অ্যান্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার’ কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে হালদা ও মারজাত বাঁওড় ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় পিতা-পুত্র নিহত, বাসে অগ্নিসংযোগ কাউখালীতে মটরসাইকেলের ধাক্কায় ব্যবসায়ী নিহত ঈদের আনন্দে দর্শনার্থীদের ঢল: কঁচা নদীর তীর ও বেকুটিয়া সেতু এলাকায় উৎসবের আমেজ মুন্সীগঞ্জে বাবা-ছেলে মিলে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ, আটক-২ আনোয়ারায় বর্বোরোচিত গণধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ‎সালথায় বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন মিলন ফকির শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে রাজাপুরে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত

জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশন রোহিঙ্গা বিষয়ে কতটুকু সরব?

মো. সাখাওয়াত হোসেন
রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৩, ৩:৪১ অপরাহ্ন

বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার, টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে বসবাস করছে। বাংলাদেশ মানবিক কারণে এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও প্রথম থেকেই এই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে নিরাপদে, টেকসই ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে। জাতিসংঘ এই অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে বর্ণনা করে সংকটের শুরু থেকেই জাতিসংঘ এবং এর অধীন সংস্থাগুলো জরুরি সহায়তার জন্য কক্সবাজারে কাজ করছে।

রোহিঙ্গাদের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের বিষয়টি সমন্বয় করে জয়েন্ট রেসপন্স প্লান বা জেআরপির। তাদের হিসেবে ২০২২ সালে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা বা ইউএনএইচসিআর ৮৮১ মিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেও আগস্ট পর্যন্ত এসেছিল মাত্র ২৮৫ মিলিয়ন ডলার। মূলত ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, জ্বালানি ও চিকিৎসার মতো বিষয়গুলোতে সহায়তা দিয়ে আসছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা, জাতিসংঘ অভিবাসন সংস্থা ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। আর শিক্ষার বিষয়টির দেখভাল করে ইউনিসেফ। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তারা মূলত অর্থ ব্যয় করে থাকে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় থাকা সরকারি সংস্থা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন যে গত কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রত্যাশা অনুযায়ী আসছে না, যা এখন আরও কম আসছে। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মতে, রোহিঙ্গাদের জন্য একদিকে বৈদেশিক সাহায্য কমছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে নিজেদের তহবিল থেকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা শরণার্থীদের জন্য খরচ করেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শনের জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিল। জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস চলমান রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বরে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করেছে জাতিসংঘ। অর্থাৎ রোহিঙ্গা ইস্যুটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা, এ বিষয়ে সকলেই একমত তথাপি সমস্যার সমাধানে অ্যাকশনে গিয়ে তড়িৎ গতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গার কারণে দেশের বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়েছে। অর্থনৈতিক খরচের পাশাপাশি বেড়েছে অবকাঠামো-পরিবেশ উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষাসহ সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার ব্যয়ও। বিশাল জনগোষ্ঠীকে সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যয়ও বেড়েছে। এতে অর্থনীতিতে বাড়তি চাপে পড়ছে বাংলাদেশ। দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের চিহ্নিতকরণ-সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার আশ্রয় ক্যাম্প। পাহাড় ও বন কেটে স্থাপন করা হয়েছে অবকাঠামো। এ কারণে উজাড় হয়েছে কক্সবাজারের প্রায় পাঁচ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি। এতে ৩৯৭ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৩ টাকার সমপরিমাণ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী আবাসন গড়তে নোয়াখালীর ভাসানচরে আবাসন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের আওতায় ভাসানচরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামে একহাজার ৪৪০টি ব্যারাক ও ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ বাবদ ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু ব্যয় প্রায় ৭০০ ডলার। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ব্যয় থাকলেও বৈধপথে আয়ের কোনও উৎস নেই। সেই হিসাবে এই ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার পেছনে সরকারের বছরে ব্যয় হতে পারে কমপক্ষে প্রায় ৬০ কোটি ডলার। এটি অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা।

জানা যায়, রোহিঙ্গাদের কারণে বছরে গড়ে ১ হাজার কোটি ডলারের অধিক ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে দাবি করা হয়, রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের কারণে এখন পর্যন্ত ১৫০ কোটি টাকা সমমূল্যের বনজ সম্পদ ব্যয় করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি আমলে নিলে এ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে দশ হাজার কোটি টাকার ওপরে। কাজেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশে নানাভাবে আর্থিক ভোগান্তিতে পড়েছে এবং ভবিষ্যতেও এর রেশ থাকবে অনেককাল।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি মে মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে জানায় যে, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য মিয়ানমারে যেসব দেশের প্রভাব রয়েছে তাদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সমাজবিজ্ঞানীদের ন্যায় ভবিষ্যৎবাণী রেখে গেলেন, কিন্তু কখন কিভাবে মায়ানমারের মিত্ররা কাজ শুরু করবে সে ব্যাপারে কোন রূপরেখা তিনি দিয়ে যেতে পারেননি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করে রাখাইনে ফিরে যেতে চায় তবে রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠিক হবে না বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেত। হাইকমিশনার রাখাইনে প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অস্পষ্ট বক্তব্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে হচ্ছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে মিশেল ব্যাশেলেতের বক্তব্য অনেকটাই গতানুগতিক। অর্থাৎ এ ধরনের বক্তব্য থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ইতিবাচক মনোবৃত্তি প্রকাশ পায় না। বাঙালিরা প্রত্যাশা করে দ্রুততম সময়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হউক। ব্যাশেলতের বক্তব্য এমন- রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে চায়, পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি, সময় লাগবে; এসব বাক্য রোহিঙ্গাদের শত্রু মিত্র সবাই উচ্চারণ করছেন। অপকর্মের হোতা মিয়ানমার জান্তার ওপর প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টিতে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি কাউকেই। ব্যাশেলেতও রোহিঙ্গা শিবিরে লেখাপড়া, কাজের সুযোগ ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন। এ যাবতীয় মন্তব্য কিন্তু দীর্ঘমেয়াদের ব্যাপারে আকারে ইঙ্গিতে বলে দিচ্ছে। অর্থাৎ সোজাসাপ্টা বললে বলা যায়-রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জোরালোভাবে উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

আশ্বাস আর বাস্তবায়ন কখনোই এক হতে পারে না। এ ধরনের আশ্বাসের কোন ভবিষ্যৎ নেই, নেই কোন সীমারেখা। বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, এ ব্যাপারে সকলেই প্রশংসা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ আশ্রয়দানের পর হতে রোহিঙ্গাদের পরিকল্পনা মাফিক দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল জায়গায় কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বক্তব্য উপস্থাপন করে নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ব্যাপারে কেবলমাত্র আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, বিষয়টা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্যতার পর্যায়ে পড়ছে না। তাহলে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কাজ নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিবে এবং একটা বিষয় কিন্তু মোটামুটিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পড়বে আর তা হলো, ইউনিটটি কেবলমাত্র বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব পালন করার প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছে অন্তত রোহিঙ্গা ইস্যুতে।

বিপরীতদিকে যদি আপনি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্ভট তথ্য দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করতে অনেকেই পটু। র‌্যাব নিয়ে তারা কথা বলে, র‌্যাবের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তারা ছাড়পত্র প্রদান করেন। অথচ তাদের নিজেদের দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি টালমাটাল, উত্তপ্ত, সাধারণ জনতা লাইসেন্সধারী আর্মস ছাড়া অনিরাপদে থাকে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা ঘটছে। এদিকে রোহিঙ্গা সমস্যাটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, প্রত্যেকেই এ ব্যাপারে অবগত, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবাধিকতার যে নজির স্থাপন করেছে তা সমসাময়িক সময়ে বিশ্ব ইতিহাসে বিরল ঘটনা। তথাপি এ ব্যাপারটির সমস্যার সমাধানে তারা কার্যকর কোনরূপ ভূমিকা গ্রহণ করতে পারছে না। তাহলে তাদের দ্বি-চারিতা নীতির বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাছাড়া আলোচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানের জন্য তারা বাংলাদেশের প্রশংসা করছে, এখন এই প্রশংসার ব্যাপারে কার্পণ্য লক্ষ্য করা যায়। প্রশংসার বিপরীতে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন পরিস্থিতি নিয়ে প্রকৃত সত্য না জেনেই তাদের মত বক্তব্য উপস্থাপন করে দেশের পরিচ্ছন্ন ইমেজকে ক্ষুণ্নু করার অপচেষ্টাও লক্ষ্য করা যায়। সবিশেষ এ কথাও স্পষ্টত বলা যায়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের আন্তরিকতার ঘাটতিও লক্ষ্যণীয়।

লেখক: চেয়ারম্যান, ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


এই বিভাগের আরো খবর