শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ঝালকাঠিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী ব্যবসায়ী আটক পাইকগাছায় নতুন মৎস্য আড়ৎ’র উদ্বোধন শ্মশান থেকে মাথার খুলি চুরির ঘটনায় ৩ হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার, খুলি উদ্ধার দুর্নীতির মামলায় সাবেক মেয়র রমজান আলী কারাগারে পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া ছাত্রীকে অপহরণের মূলহোতা নাঈম গ্রেফতার মুন্সীগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই যুবকের মৃত্যু লালমোহনে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে নাগরিক সংবর্ধনা নবীনগরে অটো-স্ট্যান্ডে জিবির নামে চাঁদা তোলা বন্ধ- ইজারা মওকুফ করায় সাংসদকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ র‍্যালি সুনামগঞ্জে খুশির জোয়ার: ‘দুর্নীতিবাজ’ ডিসির বিদায়ে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল আনোয়ারায় মাদকবিরোধী অভিযান: দেশীয় মদে জড়িত চারজন আটক বিদায়ের বেলায় অশ্রুসজল চোখ, স্বপ্নে ভরসা রেখে পথচলা রাজধানীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল জামালপুর সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩ লাখ টাকা প্রতারণা: চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার আলামত কাউখালীতে প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ উন্নয়নমূলক কোনো কাজে দুর্নীতি করলে তাকে ক্ষমা করা হবে না: গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সালথার ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার দাখিল পরিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠিত ভাণ্ডারিয়ায় বায়নের খাল কচুরিপানার দখলে ৪০ হাজার পরিবার নিত্য ব্যবহার্য পানি সংকটে বাড়ছে রোগব্যাধি সুনামগঞ্জে লক্ষ্য এখন বিষমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য কৃষি কিশোরগঞ্জে ধর্ষণ চুরি মামলার আসামী আটক নিজ স্ত্রীকে হত্যা করে দেহ খন্ডবিখন্ড,স্বামী গ্রেফতার  সরিষাবাড়ীতে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা -২০২৬ অনুষ্ঠিত নবীনগরে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে বর্ষবরণ উৎসব ও গণসংগীত অনুষ্ঠিত  বগুড়ার শিবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-২ চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারে সাংগ্রাঁই জল উৎসবে আনন্দে মাতোয়ারা হাজার দর্শক সুস্থ জীবন গঠনে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সকলকে আন্তরিক হতে হবে : ফারাহ শাম্মী ঐতিহ্য-উচ্ছ্বাসে পহেলা বৈশাখ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য বহিঃ প্রকাশ: প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান মুকুল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত, সংবর্ধনায় সিক্ত এ্যাড.ভট্টু লালমোহনে আন্তঃজেলা মাদক ও জাল টাকার ব্যবসায়ী আটক পারকি পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে আনোয়ারায় মানববন্ধন বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের লক্ষাধিক সদস্যপূর্তি অনুষ্ঠান-২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬

অমর একুশে ও আমাদের দায়বদ্ধতা

প্রীতম দাস
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ন

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির রক্তলব্ধ এক অবিনাশী দর্শনের নাম। যে রক্ত সুরমা-কুশিয়ারা ও কালনী নদীর স্রোতের মতো মিশে আছে এ দেশের মাটির গভীরে, তা আজ বিশ্বময় স্বীকৃত ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’।

সুনামগঞ্জ জেলার ভাটি বাংলার মানুষের কাছে একুশের এই চেতনা কেবল একটি স্মারক দিবস নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এবং নিজের শিকড়কে আঁকড়ে ধরার চিরন্তন প্রেরণা। আজ এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের ভাবতে হবে—বায়ান্নর সেই তেজ কি আজও আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে বহমান, নাকি তা কেবল আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে ম্লান হয়ে যাচ্ছে?

সুনামগঞ্জ ঐতিহাসিকভাবেই সংস্কৃতির এক উর্বর চারণভূমি। মরমী সাধক হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম এবং দুর্বিন শাহের এই জনপদ মূলত ভাষারই জয়গান গেয়ে এসেছে চিরকাল। তাঁদের গান ও দর্শনে যে গণমানুষের মুক্তির সুর বেজেছিল, তা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মূল সুরেরই এক সাংস্কৃতিক বহিঃপ্রকাশ। এই জেলার প্রতিটি ধূলিকণা সাক্ষী দেয় যে, হাওরপাড়ের মানুষ যেমন প্রকৃতির রুদ্ররূপের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকে, তেমনি তারা নিজের ভাষা ও স্বকীয়তা রক্ষায় কোনো আপস করতে জানে না। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, বর্তমানের এই যান্ত্রিক ও বিশ্বায়নের যুগে আমরা কি সেই সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে যথাযোগ্য মর্যাদায় লালন করতে পারছি?

আজকের বাস্তবতায় দেখা যায়, একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলেও শহীদ মিনারে ফুলের স্তূপ জমে। কিন্তু বছরজুড়ে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাষার মর্যাদা রক্ষায় কী ভূমিকা রাখা হচ্ছে?

সুনামগঞ্জের নতুন প্রজন্মের মাঝে প্রমিত বাংলা চর্চার পরিবর্তে এক ধরণের জগাখিচুড়ি ভাষার অনুপ্রবেশ ঘটছে, যা উদ্বেগজনক। জেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি থাকলেও তা পাঠকশূন্য। একুশের চেতনাকে ধারণ করার জন্য যে বইপড়া ও মননশীল চর্চা প্রয়োজন, তা ক্রমান্বয়ে স্তিমিত হয়ে আসছে।আকাশ সংস্কৃতি ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় আমাদের তরুণ সমাজ নিজস্ব লোকজ গান ও সাহিত্যের চেয়ে ভিনদেশি বিকৃত সংস্কৃতির দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে।

একুশের চেতনাকে কেবল ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে প্রাত্যহিক জীবনের অংশ করতে হবে। সুনামগঞ্জ জেলা নিয়ে আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সুনামগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে ভ্রাম্যমাণ বা স্থায়ী পাঠাগার স্থাপন করতে হবে, যেখানে শুদ্ধ বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি লোকজ ইতিহাসের চর্চা থাকবে।স্কুল-কলেজগুলোতে নিয়মিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি এবং শুদ্ধ উচ্চারণ কর্মশালার আয়োজন করা জরুরি। স্থানীয় লেখক, গবেষক ও বাউলদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে, যাঁরা একুশের চেতনাকে তাঁদের সৃষ্টিতে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কেবল একদিনের উৎসব নয়, সারা বছর শহীদ মিনারের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্ব নিতে হবে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ নাগরিক উভয়কেই।

একুশ আমাদের শিখিয়েছে ‘মাথা নত না করা’। সুনামগঞ্জের আকাশ-বাতাস আজ সেই দৃপ্ত শপথের প্রতিধ্বনি করছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ভাষা যদি হারিয়ে যায় তবে জাতি হিসেবে আমাদের কোনো পরিচয় থাকবে না। হাওরের পানির মতো স্বচ্ছ হোক আমাদের ভাষাপ্রেম, আর পাহাড়ের মতো অটল হোক আমাদের দেশপ্রেম।

​শহীদ দিবসের এই পুণ্যলগ্নে আমাদের দাবি—সর্বস্তরে বাংলার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত হোক এবং সুনামগঞ্জের কৃষ্টি-কালচার বিশ্বের দরবারে সগৌরবে উদ্ভাসিত হোক। ভাষাশহীদদের প্রতি জানাই আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

 


এই বিভাগের আরো খবর