ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে চলতি বোরো মৌসুমে মাঠ জুড়ে সোনালি ধানের বাম্পার ফলন হলেও সেচ, সার ও শ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদন ব্যয়ের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং প্রতিনিয়ত ভারী বৃষ্টির কারনে লাভের অঙ্ক নিয়ে চরম হতাশার ছাপ পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের চোখে মুখে।
এবার প্রতিনিয়ত বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওযায় নিম্ন অঞ্চলের জমির ধান নিয়ে চরম উদ্বেগে আছেন নবীনগরের কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়- চলতি মৌসুমে উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৮১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর/বিলে আবাদ হয়েছে ৮৫৫০ হেক্টর। আগাম ধান হিসেবে নবীনগর অঞ্চলে জনপ্রিয় জাত গুলো হচ্ছে- জিরাশাইল, ব্রি- ২৮, ব্রি- ৮৮ এবং ব্রি- ৯৬ । বিগত কয়েক বছরে রোগ বালাই আক্রমণ বেশি হওয়াতে ব্রি- ২৮ চাষ না করতে কৃষি বিভাগ থেকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছিল। ব্রি- ৮৮ এবং ব্রি- ৯৬ তুলনা মূলক রোগবালাই সহনশীল এবং ফলন ও বেশ ভাল। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর হাওর, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের জাফরপুর বিলে বোরো ধান পুরু দমে কর্তন হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান-“সরকারি ভাবে এবার নবীনগরে মোট ১৭৯২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। অর্থাৎ মোট উৎপাদনের ২ শতাংশ ধান সংগ্রহ করা হবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৭৫ মন ধান সরকারের নিকট বিক্রি করতে পারবেন। ইতিমধ্যে উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকের তালিকা তৈরির কাজ চলমান। এ বছর ধানের ক্রয়মূল্য কেজি প্রতি ৩৬ টাকা দরে ১৪৪০ টাকা মন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান-“বোরো আবাদ সফল করতে ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই আমরা কাটার নির্দেশনা দিয়েছি। যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি এড়ানো যায়। তিনি দ্রুত সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে বলে জানান।” কৃষকদের দাবি- উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
ওয়ারুক গ্রামের কৃষক আব্দুল বাতেন বলেন- “উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে, বাজারে সেই তুলনায় ধানের দাম না পেলে কৃষকের টিকে থাকা দায় হবে। ধান কাটতে একদিনের মজুরি ৬০০-৮০০শত টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।”
কনিকাড়া গ্রামের কৃষক আমির হোসেন জানান- “গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের দাম অনেক কম হওয়ায় খরচের টাকা উঠানো কষ্ট হবে। সরকার ধানের দাম ১৪৪০ টাকা মণ নির্ধারণ করলেও কৃষকদের উৎপাদন খরচ আরো বেশি, তাই লাভ হবে না।” নবীপুর গ্রামের কৃষক জালাল বলেন-“আমরা কৃষক গায়ের ঘাম মাটিতে ফেলে ফসল উৎপাদন করে ও লাভ করতে পারি না।”