দুবাইয়ে ব্যবসায়িক পার্টনার বন্ধুদের কাছে প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব হয়েছিলেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক টিটু। খালি হাতে প্রবাস ফেরত টিটুর ভাগ্যবদল হয়েছে কৃষিতে।
২০২০-২১ সালের দিকে হালদা নদীর চরে পৈত্রিক জমিতে সীমিত পরিসরে কৃষিকাজ শুরু করেছিলেন টিটু। বছরে বছরে তাঁর কৃষিকাজের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে হালদা নদীর চরে টিটুর বিরাট কৃষি সাম্রাজ্য। পৈত্রিক জমি ছাড়াও আশপাশের জমিগুলো বর্গা নিয়ে তাঁর কৃষি কাজ বিস্তৃত করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভা সদর অংশে হালদার চরে অন্তত ১০ কানি কৃষি উর্বর জমিতে চাষাবাদ করেছেন টিটু। শশা, ঢেঁড়স, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, লাল শাক, কলমী শাক, পাটশাক, লাল আলুসহ বিভিন্ন প্রজাতির শাক-সবজী আবাদ করা হয়েছে।
বলতে গেলে হালদার চরে যেদিকে চোখ যায়, যেন দিগন্তজোরা সবুজের সমাহার। অথচ কয়েক মাস আগেও সেখানে ছিল ধুধু বালুচর, তারও কয়েক মাস আগে ছিল অথৈ পানি। শৌখিন চাষী ওমর ফারুক টিটুদের বদৌলতে হালদার চরে জেগে উঠেছে কৃষি সম্ভাবনা৷ এখন প্রতিদিন গড়ে ৪-৫ শত কেজি শশা বিক্রি করছেন টিটু। তবে, আগাম বন্যা হলে লাখ লাখ টাকা জলে ভেসে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
হালদার চরে কৃষি সম্ভাবনার বিষয়ে নাজিরহাট পৌরসভা কৃষকদলের সভাপতি হাসান কবির বলেন, ওমর ফারুক টিটু একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি হালদার ধুধু বালুচরে কৃষি সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সফল হয়েছেন। প্রবাস জীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাশাগ্রস্ত না হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
কৃষি উদ্যোক্তা ওমর ফারুক টিটু বলেন, “আপন মানুষের কাছে দেরা দুবাইয়ে প্রতারিত হয়েছি। আমার সমস্ত টাকা-পয়সা প্রবাসে প্রতারণার শিকার হয়েছি। তবে, আমি থেমে থেকেনি, আজ আল্লাহর রহমতে আমি সফল। ৮/১০ জন শ্রমিক আমার কৃষি ক্ষেতে কাজ করেন”। তিনি আরো বলেন, প্রবাসে পাড়ি না দিয়ে কিংবা চাকরীর পেছনে না ছুটে নিজেই একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায়, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ আমি।
ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু সালেহ বলেন, টিটু ভাইয়ের কৃষি কাজ দেখতে আমার যাওয়া হয়। নিয়মিত কৃষি বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে থাকি। তিনি একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা, তাঁকে অনুসরণ করা উচিত।