মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
লোহাগাড়ায় নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন,দায়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত ২ জনকে ১৬০০০ টাকা জরিমানা  আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে: মেজর হাফিজ দূর্নীতি মুক্ত ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক দেশ পরিচালনা করাই আমাদের প্রদান লক্ষ্য: আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাঁদপুর-২ এ ধানের শীষে ভোটের আহ্বান: ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ভণ্ড অপশক্তির ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েই ধানের শীষের বিপুল বিজয় হবে: মীর শাহে আলম মতলব উত্তর ছেংগারচর পৌরসভায় হাত পাখার প্রার্থীর নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত দিনব্যাপী ‘১০ম বার্ষিক নাট্যোৎসব শুরু আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলাই টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি: মাওঃ আবুল কালাম আজাদ জামায়াত বাংলাদেশকে আফগানিস্থানে পরিণত করতে চায় তারা দেশের অগ্রগতির অন্তরায়: মির্জা ফখরুল সরিষাবাড়ীতে উলামাদল ও ইমাম, মোয়াজ্জিনদের সাথে শামীম তালুকদারের মতবিনিময় সভা বাংলাদেশে এসডিজি-৪ অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ: আগামী সরকারের কাছে প্রত্যাশা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতবাংলাদেশে এসডিজি-৪ অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ: আগামী সরকারের কাছে প্রত্যাশা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়া আমাদের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কমিউনিটি ব্যাংক ও জায়তুন ফিনটেক’র কিউআর সেবা শবে বরাত উপলক্ষে সারাদেশে র‌্যাবের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এদের কারণে একাত্তরে লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন , মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন : তারেক রহমান আমতলীতে বিএনপি প্রর্থীর পক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্বাচনী আলোচনা সভা লোহাগাড়ায় ধানের শীষের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে ব্যাপক গণসংযোগ করলেন: ফৌজুল কবির ফজলু সিদ্দিকা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত বিএনপি-জমিয়ত জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দির পথসভা অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় ইসলামি ফ্রন্ট প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে হামলা-ভাঙচুর আগামী ১৩ তারিখ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগন নতুন একটি বাংলাদেশ পাবে: ডা: শফিকুর রহমান ঝালকাঠির দুই আসনেই বিএনপির শক্ত অবস্থান, তালপাখার বাতাসে জামায়াতের ভোটে ধাক্কা বিশ্বের প্রথম ১০,০০১ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি নিয়ে এলো রিয়েলমি পি৪ পাওয়ার ফাইভজি লালমোহনে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ স্বজনদের কিশোরগঞ্জে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিশজন দালালের করাদন্ড ধানের শীষ মার্কা হলো জনগণের আস্থার প্রতীক: মীর শাহে আলম মধুখালীতে চ্যানেল এস”র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে নিরপেক্ষতা ও ধৈর্য রাখতে হবে : সেনা প্রধান দেশের ১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অনেক ডিফিকাল্ট কাজ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিশ্ব মশা দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক :
বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

ঢাকাপ্রতিদিন অন্যান্য ডেস্ক : অনেক ধরনের দিবস উদযাপন করা হয়ে থাকে বর্তমান বিশ্বে। কিন্তু মশা দিবস যে পালিত হয়, সেটি বেশির ভাগ মানুষেরই অজানা। প্রতিবছর ২০ আগস্ট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মশা দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৮৯৪ সালে ব্রিটিশ ডাক্তার প্যাট্রিক ম্যানসন ও ভারতীয় মেডিক্যাল সার্ভিসের মেডিক্যাল অফিসার রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়া প্যারাসাইটের সম্ভাব্য ভেক্টর হিসেবে মশার বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন।

বছরের পর বছর নিরলস গবেষণার পর ১৮৯৭ সালে তাঁরা প্রমাণ করেন যে অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া পরজীবী বহন করতে পারে। পরবর্তীকালে রোনাল্ড রস এই আবিষ্কারের জন্য ‘নোবেল’ পুরস্কার পান। তাঁরা তাঁদের আবিষ্কারের দিন, ২০ আগস্ট ১৮৯৭-কে ‘মশা দিবস’ বলে অভিহিত করেছিলেন। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন পরে তাঁদের আবিষ্কারের তাৎপর্য ধরে রাখতে ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবসের নামকরণ করেন, যা প্রতিবছর পালিত হয়।

এটি শুধু একটি বৈজ্ঞানিক মাইলফলক উদযাপন করার দিন নয়, বরং মশাবাহি রোগ প্রতিরোধ করাই এর মূল উদ্দেশ্য।২০২৫ সালের বিশ্ব মশা দিবসের প্রতিপাদ্য হল : ‘একটি ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের জন্য ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই ত্বরান্বিত করা।’ এই প্রতিপাদ্যটি ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার এবং বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়, বিশেষ করে দুর্বল ও দরিদ্র সম্প্রদায়ের জন্য। ১৯৩০ সাল থেকে প্রতিবছরের ২০ আগস্ট দিবসটি বিশ্ব মশা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মশা দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উষ্ণ আর্দ্রীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মশা প্রজননের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মশার ঘনত্ব এবং প্রজাতির বৈচিত্র্য বেশি থাকার কারণে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাংলাদেশে অনেক বেশি। বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১২৬ প্রজাতির মশা শনাক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে বর্তমানে ঢাকায় আমরা পাই ১৪ থেকে ১৬ প্রজাতির মশা।

বাংলাদেশে মশাবাহি রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ এনকেফালাইটিস।

ঢাকায় প্রথম ডেঙ্গু দেখা দেয় ১৯৬৩ সালে। তখন এটিকে ঢাকা ফিভার হিসেবে চিহ্নিত করা বা নাম দেওয়া হয়েছিল। ডেঙ্গুর প্রথম বড় আউটব্রেক হয় ২০০০ সালে আর তখন বিজ্ঞানীরা একে ডেঙ্গু হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ওই বছর বাংলাদেশে পাঁচ হাজার ৫৫১ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় এবং ৯৩ জন মারা যায়। এরপর প্রায় প্রতিবছরই কমবেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে, তবে ২০১৯ সালে ডেঙ্গু এপিডেমিক আকার ধারণ করে। ওই বছর সরকারি হিসাব অনুযায়ী এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৭৯ জন মারা যায়।

করোনাকালীন বছরগুলোতে ডেঙ্গু কিছুটা নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে থাকলেও ২০২৩ সালে বাংলাদেশের সব ইতিহাস ভেঙে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ রোগী তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা যায় এক হাজার ৭০৫ জন। ২০২৪ সালও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেমে থাকেনি। ৯ হাজারেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং ৭৫ জন মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এগিয়ে।

ডেঙ্গু সংক্রমণ ঘটায় ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার দুটি প্রজাতি। যার একটি হলো এডিস ইজিপ্টি, আরেকটি হলো অ্যালবোপিকটাস। এডিস ইজিপ্টিকে শহরে বা নগরের মশা অথবা গৃহপালিত মশা বলা হয় আর অ্যালবোপিকটাসকে বলা হয় এশিয়ান টাইগার মশা অথবা গ্রামের মশা। এডিস মশা পাত্রে জমা পানিতে জন্মায় ও বর্ষাকালে এর ঘনত্ব বেশি হয়। তাই ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব এই সময়টায় বেড়ে যায়।

২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম চিকুনগুনিয়া ধরা পড়ে, যেটি ডেঙ্গুর মতো একটি রোগ। এই রোগটি চিকুনগুনিয়া ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় প্রতিবছর বাংলাদেশে চিকুনগুনিয়া রোগ শনাক্ত হয়। ঢাকায় সবচেয়ে বেশি চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয় ২০১৬-১৭ সালে। ডেঙ্গুর চাপে এখন এই রোগটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা খুব বেশি করা হচ্ছে না। বেশির ভাগ হাসপাতালে চিকনগুনিয়া পরীক্ষা করার মতো কিট নেই। ডেঙ্গুর পাশাপাশি এই রোগটি চিহ্নিত করার বিষয়েও জোর দেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশসহ পৃথিবীব্যাপী মশাবাহি রোগের মধ্যে অন্যতম হলো ম্যালেরিয়া। অ্যানোফিলিস মশার সাতটি প্রজাতি বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়। এর মধ্যে চারটি প্রজাতিকে প্রধান বাহক বলা হয়। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা এবং সীমান্ত এলাকায় মোট ১৩ জেলার ৭২টি উপজেলায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ২০০০ সালের পর সবচেয়ে বেশি ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা যায় ২০০৮ সালে।

২০০৮ সালে ৮৪ হাজার ৬৯০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং ১৫৪ জন মারা যায়। ২০২১ সালে বাংলাদেশে এই সংখ্যাটি কমে আসে সাত হাজার ২৯৪ জনে। তবে গত বছর সরকারি হিসাব মতে, ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজারেরও অধিক। ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশা গ্রীষ্ম-বর্ষায় বেশি জম্মায় এবং এই সময়ে রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। পার্বত্যাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিশেষ করে আলীকদম, থানছি ও লামায় এখনো ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি।

মশাবাহিত আরো একটি দুর্বিষহ রোগ ফাইলেরিয়া। স্থানীয়ভাবে এই রোগটিকে গোদরোগ বলা হয়ে থাকে। ফাইলেরিয়া রোগে মানুষের হাত-পা ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। ফাইলেরিয়া বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম-দক্ষিণের প্রায় ৩৪টি জেলায় কমবেশি পাওয়া যায়। একসময় এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি ছিল, তবে বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ফাইলেরিয়া এলিমিনেশন প্রগ্রামের মাধ্যমে এটিকে নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। ফাইলেরিয়া নেমাটোড-জাতীয় কৃমি; এটি ইউচেরিয়া ব্যানক্রফটিবাহি মশা দ্বারা সংক্রমিত হয়। কিউলেক্স মশার দুটি প্রজাতি ও ম্যানসোনিয়া মশার একটি প্রজাতির মাধ্যমে বাংলাদেশে এ রোগ ছড়ায়।

জাপানিজ এনকেফালাইটিস নামক মশাবাহি আরো একটি রোগ, যা বাংলাদেশে হয়ে থাকে। এই রোগটি কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগটি বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৭ সালে মধুপুর বন এলাকায়। এরপর বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলে এই রোগটি পাওয়া যায়। বর্তমানে এই রোগটি নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা না থাকার কারণে জানা যাচ্ছে না এই রোগের আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা।
ঢাকাপ্রতিদিন/এআর


এই বিভাগের আরো খবর