বর্ষা মৌসুম আসার আগেই পাবনার বেড়া উপজেলার নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা সমূহে নতুন নৌকা কেনা,তৈরি ও পুরাতন নৌকা মেরামতের ধুম পড়েছে।
যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকা উপজেলার ডাকবাংলো ঘাট,মোহনগঞ্জ, মালদাহপাড়া,পেচাকোলা, নাকালিয়া, হরিরামপুর, মাছখালি,রাকসা,নাটিয়াবাড়িসহ, উপজেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া নতুন ভারেঙ্গা, পুরান ভারেঙ্গা, এই তিনটি ইউনিয়নের রয়েছে বিস্তৃীর্ন চর অঞ্চল। এসব চর অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজ ও মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে বছরের পর বছর।
এসব চর এলাকা থেকে বিভিন্ন কৃষি জাত ফসলাদি,বিভিন্ন হাট বাজারে আনা নেওয়া লোকজন পারাপার এবং মাছ শিকারের একমাত্র বাহন এই নৌকা। তাই প্রায় সারাবছরই এসব চর অঞ্চলের মানুষ নৌকার উপরেই নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় এদের প্রয়োজন হয় ছোট বড় সব ধরনের নৌকা। এবারও চর অঞ্চলসহ বিভিন্ন নদী তীরবর্তী এলাকার অনেকেই বিভিন্ন হাট থেকে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা কেনাসহ বড় সাইজের নতুন নৌকা তৈরি এবং পুরাতন নৌকা গুলো মেরামত কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।
এ বিষয়ে উপজেলার চর নাগদাহ গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রতিবছর এ সময়ে নৌকা তৈরি, মেরামত করা এবং নতুন নৌকা কেনার হিড়িক পড়ে যায় এসব চরাঞ্চলে। চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা বরাবরই কষ্টদায়ক।
শুধু বর্ষাকালে নয় সারাবছর কমবেশি ছোট বড় এসব নৌকা চর এলাকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। চর নাকালিয়া গ্রামের ইসমাইল মাস্টার বলেন, এবার অনেকেই নৌকা তৈরি করছে। বিভিন্ন হাটবাজার থেকে এক সিজনের জন্য ১২ থেকে ১৩ হাতের ছোট সাইজের নৌকা ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় বাজার থেকে কিনে আনছে অনেকেই। ছোট নৌকা মুলত বর্ষাকালে মাছ ধরা,কৃষিকাজ এবং এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাতায়াতের জন্য বেশি ব্যবহার করা হয়। আর ৩০ থেকে ৪০ হাত একটা নৌকা তৈরি করতে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এটি শ্যালোইঞ্জিন দ্বারা চালিয়ে খেত থেকে ফসলাদি আনা দূর দূরান্ত হাট-বাজার থেকে মালামাল আনা নেওয়া করা হয় এবং মানুষজন পারাপারের জন্য বড় নৌকা বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে।