দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো অবাধে চলছে বালু উত্তোলন, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পরিবেশ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন নামা এলাকায় নতুন করে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, গভীর রাতে এবং কখনো কখনো দিনের বেলায়ও ড্রেজার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র এ এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। ফলে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও নতুন উদ্যমে বালু উত্তোলন শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে নদীভাঙন বৃদ্ধি, জলজ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং সেতু, ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্র দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের আশপাশে এ ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে বলে তারা মনে করেন।
এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসন, নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সংসদে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে কেন তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না?
এ বিষয়ে রাজবাড়ী-১ (রাজবাড়ী সদর-গোয়ালন্দ) আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।