বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সংসদে কঠোর বার্তা, মাঠে চলছে অবাধ বালু উত্তোলন: দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নতুন করে অভিযোগ শেরপুরে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ -২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ঈদযাত্রায় যমুনাসেতুর ১৩ কি.মি. যানজটের শঙ্কা, জোরালো হচ্ছে দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও কাঁচা সড়কে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া! ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ঝালকাঠি শহরের ৯ খালের সীমানা পিলার স্থাপন কাজের উদ্বোধন রামিসার হত্যাকারীসহ সকল ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে ভাণ্ডারিয়ায় মানববন্ধন প্রকল্প নিয়ন্ত্রণে ঘাটতিতেই বাড়ে সময় ও ব্যয় আইইবি সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোরের আহ্বান কাউখালীতে শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত দক্ষিণ বড় বিড়ালজুরি চন্দ্রঘোনায় চর্মরোগ বিষয়ক স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ওমানে নিহত ৪ ভাইয়ের নিথর মরদেহ নিয়ে লালাগ্রামে শোকের মাতম, পাশাপাশি কবরে দাফন হাটহাজারীতে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন জাল দলিলের হার বেশি যাচাই ছাড়া নামজারি নয়- ডিসি প্রেমের দ্বন্দ্বে বন্ধু হত্যার রহস্য উদঘাটন, শেরপুরে গ্রেফতার ২ ব্র্যাক ময়মনসিংহে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবে : পরিচালক নগরকান্দায় ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কাপ্তাইয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা ও একজনের জেল পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করবে বর্তমান সরকার : প্রধানমন্ত্রী কাঁঠালিয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতুকে সংবর্ধনা বগুড়ার শিবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি, পেল নতুন পোশাক নগরকান্দায় শুরু হয়েছে ৩ দিন ব্যাপী ভূমিসেবা মেলা ব্র্যাক ময়মনসিংহে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবে : পরিচালক কিশোরগঞ্জ মাদক মামলার আসামী আটক নগরকান্দায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কক্সাজার পশুর বাজারগুলোতে এখন সাজ সাজ রব মাঝারি গরুতে নজর ক্রেতাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন দিনব্যাপী ভূমি মেলার উদ্বোধন জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আনোয়ারায় ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ উদ্বোধন শেরপুরে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশের চাকুরি পেলেন ২৫ জন সালথায় জাতীয় ভূমিসেবা সপ্তাহ উদযাপন ‎রাজশাহী দুর্গাপুরে ভূমি মেলা-২০২৬ উদ্বোধন

পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করবে বর্তমান সরকার : প্রধানমন্ত্রী

সাদ্দাম হোসেন অনন্ত, গাজীপুর
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ন

ফারাক্কা বাঁধের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পানির সংকট নিরসনে প্রস্তাবিত পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের জোরালো অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর সাতাইশ ধরপাড়া এলাকায় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমরা ছোটবেলায় দেখেছি পদ্মা নদীর এপার থেকে ওপার দেখা যেত না। এখনো হয়তো দেখা যায় না, তবে তখন পদ্মায় পানি ছিল, আর এখন নদী পানিহীন, শূন্য।

ফারাক্কা বাঁধের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই বাঁধের কারণে আমাদের নদীতে পানির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। নদীতে নাব্যতা ও পানির প্রবাহ না থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রে নোনা পানি দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে। ফলে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটছে। গাছপালা নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে আমাদের কৃষক ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে। আর সেজন্যই আমরা পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করতে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে যে বাড়তি পানি আসে, তা এই ব্যারেজগুলোর মাধ্যমে ধরে রাখা হবে, যাতে শুষ্ক মৌসুমে দেশের মানুষ ও কৃষকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ব্যবহার করতে পারেন।

তিস্তা নদী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য তিস্তা নিয়ে অনেকে অনেক বড় বড় এবং গরম গরম কথা বলতে পারেন। তবে আপনাদের সামনে আমি পরিষ্কার করে বলে যেতে চাই—ইনশাআল্লাহ, এই বিএনপি সরকারই পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজে হাত দেবে এবং তা বাস্তবায়ন করবে। যারা আজ বড় কথা বলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আজ এখানে যে দুর্যোগ মন্ত্রী বসে আছেন, তাঁর নেতৃত্বেই তিস্তায় বিএনপি কার্যকর কর্মসূচি পালন করেছে, যা বাংলাদেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করেনি। বিএনপি শুধু মুখে বলে না, কাজে বিশ্বাসী।

প্রধানমন্ত্রী পরিবেশগত বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের যোগসূত্র তুলে ধরে বলেন, গত ২০ বছরে আমরা যে পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি তুলে ব্যবহার করেছি, তা প্রাকৃতিকভাবে রিচার্জ হতে আরও ২০ বছর সময় লাগবে। আগামী ২০ বছরে দেশের জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়বে। তাই এভাবে অবিরাম ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা আমাদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, যা ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগে গুলশান বা সেনানিবাস এলাকায় ১৫-২০ ফিট গভীরে পানি পাওয়া যেত, আর এখন সেখানে ৬০০-৭০০ ফিট নিচে নামতে হয়। নিচে পানির স্তর শূন্য হয়ে যাওয়ার কারণে ওপরের ভূখণ্ড ধসে পড়ার স্বাভাবিক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘খাল খনন কর্মসূচি’ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে হয়তো আমরা থামাতে পারব না, কিন্তু আমরা যা পারি তা হলো—মানুষকে সচেতন ও ওয়াকিবহাল করা। আজকের অনুষ্ঠানের শপথ হওয়া উচিত, আমরা নিজেরাও সচেতন হব এবং অন্যকেও সচেতন করব, যেন দুর্যোগের সময় জানমাল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়।
তিনি দেশের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা একটি গরিব দেশ, আমাদের সম্পদ সীমিত। আমাদের অবহেলা ও অজ্ঞতার কারণে যেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট না হয়। আসুন আমরা সবাই মিলে খাল খনন করি, বৃক্ষরোপণ করি এবং পানির অপচয় রোধ করি। প্রকৃতিকে যত কম বিঘ্নিত (ডিস্টার্ব) করা যায়, আমাদের সেই চেষ্টা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আসার পর প্রধানমন্ত্রী ইনস্টিটিউটের নকশা বা ডিজাইন কিছুটা পরিবর্তন করে সুন্দরবনের মতো গাছপালা ও প্রকৃতি রক্ষা করার জন্য প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং একটি স্মারক তালগাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, সচিব সাইদুর রহমান খান, মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা: রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর- ২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার, জেলা পরিষদ, গাজীপুরের প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার, অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান মল্লিক,গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া, পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন, বিএনপি নেতা হাসান উদ্দিন সরকার, ডা: মাজহারুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহরিয়ার নজিরসহ গাজীপুরের জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, গাজীপুরের সাতাইশ চৌরাস্তার ধরপাড়া এলাকায় প্রায় ৮ একর জমির ওপর এই জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটি নির্মিত হচ্ছে। ৫০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এখানে প্রশাসনিক ভবনসহ প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আধুনিক আবাসিক সুবিধাও থাকবে। সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে এটি দক্ষিণ এশিয়া তথা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুর্যোগ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দেন।
সকালে প্রধানমন্ত্রী একাডেমি প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পেশাদারিত্ব, জনসম্পৃক্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি একটি বহুমাত্রিক ও জনমুখী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে এই বাহিনী ভবিষ্যতে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক ও সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শৃঙ্খলার সামান্য ঘাটতিও জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। যেকোনো দেশেই যেকোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য “চেইন অব কমান্ড” ও “ডিসিপ্লিন” মেনে চলা অনিবার্য ও অবশ্য পালনীয় নীতি। এই দুইটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা থাকলে কোনো বাহিনী প্রকৃত অর্থে সুশৃঙ্খল হয়ে উঠতে পারে না। কোনো বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিলে সেই বাহিনী সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়, আপনাদের এ বিষয়টি গভীরভাবে মনে রাখতে হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাহিনীর অনন্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই সংকটকালীন সময়ে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছে। দেশের অস্থিতিশীলতা ও অরাজক পরিস্থিতি দূর করে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই বাহিনীর সদস্যরা শহর থেকে গ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি—এই প্রতিটি শক্তি সমন্বিতভাবে দেশের নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই সুবিন্যস্ত কাঠামোই বাহিনীটিকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলভিত্তিক একটি শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম, সরকারি দপ্তর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প কলকারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাহিনীর অবদান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা, মাদকবিরোধী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতি জোরদারে আনসার-ভিডিপির সক্রিয় ভূমিকা দৃষ্টান্তমূলক। এই বাহিনী কেবল নিরাপত্তা রক্ষা নয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর জনশক্তি গড়ার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আনসার-ভিডিপি বর্তমানে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সিক্স-জি (6G) ওয়েল্ডিং করাসহ বহুমাত্রিক চাহিদাভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে, যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। সঞ্জীবন প্রকল্প, বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে এই বাহিনী দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে।’ বর্তমানে বাহিনীর ১৩ হাজারের বেশি ফ্রিল্যান্সার ও ফিল্ড ভিডিপি সদস্য এবং নগর এলাকায় টিডিপি সদস্যরা এই প্রযুক্তি সেবায় যুক্ত আছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপি বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য “ফাস্ট রেসপন্ডার” (Fast Responder) স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যগণ টেকসই উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনসার-ভিডিপির সাফল্যের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ গেমসে পরপর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ এই বাহিনী ২০০৪ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ অর্জন করে। বর্তমান সরকার ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে খেলোয়াড়দের একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ‘স্পোর্টস কার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আনসার-ভিডিপির ১৫ জন আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদকেও এই স্পোর্টস কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সার্বিক নিরাপত্তায় ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে আনসার বাহিনীর অবদান অবিস্মরণীয়। ১৯৭১ সালে প্রায় ৪০ হাজার আনসার সদস্য নিজেদের থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং দেশের জন্য ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। আমি তাদের অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।’

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাডেমি মিলনায়তনে দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত আনসার সদস্যদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরে তিনি একাডেমি প্রাঙ্গণে বাহিনীর সদস্যদের পরিচালিত তাঁত ও বুনন শিল্প, মৃৎ শিল্প, গবাদি পশুর খামার এবং জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি একাডেমির পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং একটি স্মারক বৃক্ষ (তালগাছ) রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সংসদ সদস্য ও সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরো খবর