কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকায় বাসায় ঢুকে ছুরিকাঘাতে সানজিদা আক্তার (রেশমি) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) গভীর রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সানজিদা আক্তার রেশমি নিয়মিত একটি মুদির দোকান থেকে বাজার করতেন। সেই সূত্রে দোকান ব্যবসায়ী শফিউল আলম সওদাগরের সঙ্গে তার পরিচয় এবং পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানতে পেরে শফিউল আলম সওদাগরের স্ত্রী ইয়াসমিনসহ কয়েকজন নারী বুধবার রাতে সানজিদার বাসায় যান। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে সানজিদাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
ঘটনার সময় বাসায় থাকা সানজিদার ১২ বছর বয়সী ছেলে সাব্বিরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সানজিদাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের ছেলে সাব্বির জানায়, ঘটনার সময় তার মা ছাড়াও দুইজন পুরুষ বাসায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজনকে সে শফিউল আলম সওদাগর হিসেবে চিনতে পেরেছে। পরে কয়েকজন নারী এসে তার মায়ের ওপর হামলা চালায় এবং ছুরিকাঘাত করে।
নিহতের বাসায় কর্মরত আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, পূর্বের পারিবারিক বিরোধ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসমিনকে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় সমাজকর্মী ডালিম ও রিয়াদ জানান, আহত সানজিদাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তারা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
হাসপাতালে উপস্থিত নিহতের সাবেক স্বামী ইমন কন্ট্রাক্টর বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানতেন না। খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।