বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নারী ও শিশুর সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নতুন স্বপ্ন দেখছে ৮ মেধাবী শিক্ষার্থী ফটিকছড়িতে একটি সেতু ১০ গ্রামের দৃশ্যপট পাল্টাতে পারে ফটিকছড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু ফটিকছড়িতে এলজি বন্দুক ও ৭ রাউন্ড কার্তুজসহ যুবক গ্রেপ্তার পাইকগাছা পৌরসভায় বিল্ডিং ঘেঁষে ভাঙারির স্তুপ, মশা-মাছির উপদ্রব চরমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রাম আদালত বিষয়ক দিনব্যাপী রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম নির্বাচনে জুরিবোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত বিস্ফোরক মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার সীমান্তে পুশ-ইন প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে ১৭ বিজিবি নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে নান্দাইলে বিএনপির বিক্ষোভ গোয়াইনঘাটে কৃষি প্রযুক্তি মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের শুভেচ্ছা বিনিময় বাকৃবি ও প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর মতলব উত্তরে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার ময়মনসিংহে লাইনচ্যুত উদ্ধারকারী ট্রেন, রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বন্দরে শীর্ষ মাদক ব্যাবসায়ী সুফি আটক,১ বছরের জেল পুলিশের জন্য গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত, ব্যয় হবে ১৮২ কোটি ৩২ লাখ গফরগাঁওয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীদের প্রচেষ্টায় ছয় নবজাতক মায়ের কোলজোড়ে রেলক্রসিং, সংকীর্ণ সড়ক ও অবৈধ স্ট্যান্ডে স্থবির হয়ে পড়ছে বিভাগীয় নগরজীবন সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে : ইউএনও রামরামপুর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় কোরবানির ঈদে ঘরে বসেই সাশ্রয়ী ও নিরাপদ কেনাকাটার মেগা অফার নিয়ে এলো ‘স্বপ্ন’ নগরকান্দায় নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত সাংবাদিক আজাহার আলী সরকার মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন পিজি’র প্রিজন সেলে সাপাহারে মাল্টি স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত মাসুদ কামালকে চিকিৎসক সমাজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান ড্যাবের কক্সবাজারের পরকীয়া সন্দেহে নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা ফুলবাড়িয়ায় গ্রাম আদালত নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত কর্মশালা

রেলক্রসিং, সংকীর্ণ সড়ক ও অবৈধ স্ট্যান্ডে স্থবির হয়ে পড়ছে বিভাগীয় নগরজীবন

ময়মনসিংহ ব্যুরো
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ন

দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার অভাবে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহ এখন ক্রমবর্ধমান যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

অপরিকল্পিত নগরায়ন, সংকীর্ণ সড়ক, অবৈধ যানবাহন স্ট্যান্ড, অপর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত দখল এবং একের পর এক রেলক্রসিং—সব মিলিয়ে নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবন এখন তীব্র ভোগান্তির মুখে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ময়মনসিংহের যানব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে যানজট নিরসনে অবিলম্বে ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন, শহর ঘিরে রিংরোড নির্মাণ, ব্রহ্মপুত্র নদের দুই তীরে শহররক্ষা বাঁধ কাম সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ এবং পরিকল্পিত আন্তঃজেলা বাস ও সিএনজি টার্মিনাল স্থাপনের দাবি জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

আজ বুধবার (১০ জুন) দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত “ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে যানজট নিরসনে করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে প্রশাসন, পুলিশ, সড়ক বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি, প্রকৌশলী, নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিক নেতারা এসব সুপারিশ তুলে ধরেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশের অষ্টম বিভাগীয় সদর দপ্তর হওয়ার পরও ময়মনসিংহে এখনো মেট্রোপলিটন পুলিশ চালু না হওয়ায় আধুনিক ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। গত এক দশকে নগরীর জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে সড়ক সম্প্রসারণ কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন হয়নি। ফলে নগরীর গাঙ্গিনাপাড়, চরপাড়া, নতুন বাজার, পাটগুদাম ব্রিজ মোড়, মাসকান্দা, শম্ভুগঞ্জ, দিগারকান্দা বাইপাস ও টাউনহল মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগেই থাকছে।

সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, “নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। যানজটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রশাসন, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (অ্যাডমিন) মো. গোলাম মাওলা। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি পরিকল্পিত নগরীতে মোট ভূমির অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সড়ক থাকা প্রয়োজন হলেও ময়মনসিংহ নগরীতে সড়কের পরিমাণ মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ। ফলে সামান্য চাপ বাড়লেই যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, নগরীর ভেতরে থাকা ১২টি রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন ২৩টি আপ-ডাউন ট্রেন চলাচল করে। এতে গড়ে ৪৭ বার রেলগেট বন্ধ করতে হয় এবং প্রতিবার প্রায় ১০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৪৭০ মিনিট বা প্রায় আট ঘণ্টা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে নতুন বাজার, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, শম্ভুগঞ্জ ও চরপাড়া রেলক্রসিংয়ে দীর্ঘ যানজট এখন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।

ট্রাফিক বিশ্লেষকদের মতে, বিভাগীয় শহরের ভেতরে এত বেশি লেভেল ক্রসিং থাকা দেশের অন্য কোনো বড় নগরীতে খুব কমই দেখা যায়। ফলে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অবৈধ স্ট্যান্ড, ফুটপাত দখল ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ে সংকট তীব্র বলে উল্লেখ করে
ময়মনসিংহ জেলা মোটরযান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নগরীর পাটগুদাম মোড়, দিগারকান্দা বাইপাস, চরপাড়া ও মাসকান্দা এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিএনজি ও মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড সড়কের সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকানপাট বসানোয় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কোম্পানির অনেক বাসের ফিটনেস ও বৈধ রেজিস্ট্রেশন নেই। পাশাপাশি ট্রাক, লরি ও পণ্যবাহী যানবাহন দিনের বেলায় সড়কে দাঁড়িয়ে মালামাল লোড-আনলোড করায় যানজট আরও বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ নিলে পরিবহন শ্রমিকরা যানজট নিরসনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”

বিশেষজ্ঞরা ‘দীর্ঘমেয়াদি সমাধান’ হিসেবে
সেমিনারে নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীরা বলেন, শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ময়মনসিংহের যানজট সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত নগর পরিকল্পনা ও বিকল্প সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। বিশেষ করে শহর ঘিরে রিংরোড নির্মাণ করা গেলে আন্তঃজেলা ভারী যানবাহনকে নগরীর ভেতরে প্রবেশ না করিয়েই বিকল্প পথে চলাচল করানো সম্ভব হবে। এতে নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কে চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
তারা আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের দুই তীরে শহররক্ষা বাঁধ কাম সড়ক নির্মাণ করা গেলে একদিকে যেমন নগর রক্ষা হবে, অন্যদিকে বিকল্প সড়ক যোগাযোগও তৈরি হবে। পাশাপাশি বহুতল ভবনে বাধ্যতামূলক আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং, নির্ধারিত স্থানে পার্কিং জোন, পৃথক বাস টার্মিনাল এবং অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ নিশ্চিত করা না গেলে যানজট পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

সচেতনতা ও আইনের প্রয়োগেও জোর
বক্তারা বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। যেখানে-সেখানে গাড়ি থামানো, উল্টো পথে চলাচল, লাইসেন্সবিহীন চালক এবং নিয়ম না মেনে যানবাহন চালানোর প্রবণতা নগরীর যানজটকে আরও তীব্র করছে। এ ক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) জন কেনেডি জাম্বিল, পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ কামরুল হুদা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফ, জেলা মোটর মালিক সমিতির মহাসচিব আব্দুর রব আকন্দ রতন, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাগরময় সাহা, সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, নিরাপদ সড়ক চাই কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের চৌধুরী মুন্না এবং সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।


এই বিভাগের আরো খবর