নারী ও শিশুর সুরক্ষায় কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
আজ বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মক্ষেত্র: নারীর নিরাপদ শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে জাতীয় কাঠামো প্রণয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্বব্যাংক-এর আমব্রেলা ফ্যাসিলিটি ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটি, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের থিংকিং, ইনোভেশন অ্যান্ড জেন্ডার ল্যাবের যৌথ উদ্যোগে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু অপরাধ সংঘটনের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই হবে না; অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা সাধারণত নির্যাতনের ঘটনার পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সক্রিয় হই, কিন্তু অপরাধের পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করে প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হই। ফলে অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, আইন ও নীতিমালার কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ‘সাধারণ মেয়ে’ কবিতার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী সাম্প্রতিক এক কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিশুটিকে তার নিজের বাবা ও চাচা দীর্ঘদিন নির্যাতন করেছে। রাষ্ট্র সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিতে প্রস্তুত থাকলেও পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতার কারণে সেই সুযোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনা সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও বিকৃত মানসিকতার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফারজানা শারমীন বলেন, “সমস্যাটি আইনের দুর্বলতায় নয়, বরং আমাদের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার ঘাটতিতে নিহিত। তাই নীতিনির্ধারক, সুশীল সমাজ ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করে সমাজ থেকে এই বিকৃত মানসিকতা দূর করতে হবে। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ক্যাথরিন ব্রিন কামকং, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং সাবাহ মইন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. সায়েদ শায়েখ ইমতিয়াজ। স্বাগত বক্তব্য দেন ড. সোমা দে। কর্মশালায় নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং এ বিষয়ে একটি জাতীয় কাঠামো প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।