খুলনার পাইকগাছায় আলোচিত হাসান হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার পুর্বক দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের নামে দুটি কাউন্টার মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন নিহতের মা পারভীন বেগম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার মেঝ ছেলে হাসান সরদার (৩৫)। সে সব সময় মিন্টু ও কু্দ্দুসদের সাথে চলাফেরা করতো। কিছুদিন আগে তাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে। গত ৭ জুন বিকেল থেকে এশার নামাজ পর্যন্ত দফায় দফায় নৃশংসকভাবে নির্যাতন করে তার ছেলেকে হত্যা করেছে। যার নেতৃত্বে ছিলো স্থানীয় মিন্টু ও কুদ্দুস গাজী। তারা এলাকার চিহ্নিত সন্তাসী, অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজ। তাদের অত্যাচারে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ। হাসিনা সরকারের পতনের সময় লুটপাট, পরে দখলবাজী ও চাঁদাবাজী করে কোটি টাকার মালিক হয়েছে। সন্ত্রাসীরা তার ছেলেকে হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি। মিন্টুর লোকেরা তাদেরকে হাসানের মত অবস্থা করে ছাড়বে এমন হুমকি দিচ্ছে। গত ১৪ জুন হত্যা মামলার প্রধান আসামী মিন্টুর ভাই মোঃ মিলন ইসলাম চাঁদখালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল মজিদ সরদারকে ১ নং আসামি করে ১৪ জুন ১১ জনের নামে পাইকগাছা থানায় মামলা করেছে।
এছাড়াও আসামি কুদ্দুসের স্ত্রী পারভীন বেগম বাদী হয়ে নিহত হাসানের চাচাতো ভাই রুবেলকে ১নং আসামী করে নিহতের স্বজনদের নামে আরও একটি মামলা করেছে। মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে ঘরে অগ্নিসংযোগ ও দোকান ভাংচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, তার ছেলেকে হাতুড়ি, লাঠি ও রড দিয়ে দফায় দফায় প্রকাশ্য আঘাত করা হয়েছে। বার বার সে বেহুশ হয়ে পড়ছে কাউকে ঠেকাতে দেয়নি। কেউ মোবাইলে ছবি উঠাতে গেলে মোবাইল ভেঙ্গে দিয়েছে। নিহত হাসনের মাথার পিছনে ঘিলু / মগজ বেরিয়ে যায়, কপাল, চোয়ালের দুপাশে পেরেক ফুটানো হয়েছিলো, হাত ভেঙ্গে দিয়েছিলো, পায়ের রগ কেটে দিয়েছিলো, সিগারেটের আগুনে শরীরের বিভিন্ন অংঙ্গ পুড়িয়ে দিয়েছিলো। নসিমনে নেয়ার সময় পশুর মত বেঁধে টেনে হেছড়ে নিয়ে যায়। এ সময়ও হাসান জীবিত ছিলো। কিন্তু তার গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস আটকে হত্যা করা হয়েছে বলে লোকজন আলামত দেখেছে বলে তিনি বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এর দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করেন। মিথ্যা ও হয়রানী মুলক মামলা করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ বিষয়ে মিলন ইসলাম বলেন, হাসান মাদকসেবী। সে কারণে জনগণ পিটানি দিয়ে হত্যা করেছে। এছাড়াও নিহতের পরিবারের লোকেরা তাদের ঘরে অগ্নি সংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।