স্বপ্ন পুরণ করতে রাশিয়ায় গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত হলেন মাদারগঞ্জের যুবক মফিজ (২২) ও আরিফ ( ২৮) । রাশিয়ায় নিহত মফিজ অত্র উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চর গুজামানিকা এলাকার বানু প্রামাণিকের ছেলে অপরজন সিধুলী ইউনিয়নের রায়ের ছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ।
সোমবার মাদারগঞ্জ উপজেলার চর গুজামানিকা এলাকা ও রায়ের ছড়া এলাকায় নিহতের বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে ড্রোন হামলায় নিহত মফিজ (২২) ও আরিফ (২৮) অনেক স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়া গিয়ে ছিল। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মফিজ ছিল বড়। গত মে মাসের ৭/৮ তারিখে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় মফিজ ও আরিফ । রোববার পরিবারের লোকজন জানতে পারে মফিজ ও আরিফ ড্রোন হামলায় মারা গেছে। নিহত আরিফ এর ২ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহত মফিজ এর ছোট ভাই মেহেদী জানান যাওয়ার ৭ দিন পর ফোন দিছিলো’ আমার মাথার চুল নাই ন্যাড়া করে দিয়েছে। আর ফোন দেয়নি ২৯ মে ফোন দিয়েছিল বলতেছে আমি ভাঙ্গারির নিচে আছি। আমারে সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিবে। আমরা বিষয়টা সরকারের কাছে অবগত করলেও ফিরাতে পারলাম না। আমরা জানতে পারলাম ১০ জন মারা গেছে তার মধ্যে আমার ভাই ও আছে। আমার ভাই মারা গেছে তার মরদেহ দেশের আনার জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।
নিহত মফিজের চাচা বাবু জানান আমার ভাতিজা মফিজ মিয়া উন্নত জিবন যাপনের জন্য রাশিয়ায় পাড়ি জমায়। দালাল কর্তৃক যে ভিসা দেওয়ার কথা ছিল সে ভিসা না দিয়ে তাকে রাশিয়া সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। ২৯ লাখ টাকায় তাকে বিক্রি করে দেয়। আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই এই দালাল চক্রের উপযুক্ত শাস্তি চাই। আমার ভাতিজার লাশ টা দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই।
নিহত আরিফ এর বাবা তারা মিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে জানান আমার ছেলেকে ঐ দেশের সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে দালালরা। দালালদের শাস্তি চাই আমাদের । আরিফ মারা গেছে ঐখান থেকে কেউ জানাইছে। সরকারের কাছে অনুরোধ আমার ছেলেকে জীবিত অথবা মৃত দেশে ফেরত চাই।