হাটহাজারীতে মঙ্গলবার ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। জনবান্ধন অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্হাপনা, সুরক্ষিত ভূমি,সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্য বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় উর্ধতম কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে তিন দিন ব্যাপী সারা দেশের মত এই উপজেলায় এই মেলার আয়োজন করেন।
ভূমি দপ্তরের কার্যালয় চত্বরে মেলা উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক কেশব কুমার বড়ুয়া। বক্তব্য রাখেন পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব যথাক্রমে জাগির হোসেন ও অহিদুল আলম। শেষে বেলুন উড়িয়ে ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। মেলার আনুষ্ঠানিক শেষে ভূমি বিষয় নিয়ে গন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বাহ্নে ঢাকায় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান এম পির মেলা উদ্বোধন কার্যক্রম মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।
মেলা উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ইউ এন ও বলেন হাটহাজারীতে প্রতি মাসে ১৮শ নাম জারীর আবেদন পাওয়া যায়। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে দেশের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবের জন্য এসব মামলা ২৮ দিনে নিস্পত্তি করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু হাটহাজারীতে গড়পড়তা মাত্র ১৮ দিনে নিস্পত্তি করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ আবেদন যাচাই বাচাই করে কম সময়ে নিস্পত্তি করা খুবই দূরুহ ব্যাপার। এর মধ্যে ও সহকারী ভূমি অফিস আন্তরিক ভাবে কাজ করে নানামুখী সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আবেদনের প্রায় ২৫% ভাগের ও বেশি পরিমাণ ভূমির নাম জারী করে দেওয়া হয়। তিনি মঙ্গলবার ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান মন্ত্রী বক্তব্যে ভূমি সংক্রান্ত ৪৭লাখ মামলা কথা উল্লেখ করে বলেন ভূমি বিষয়ে নানামূখী জটিলতা কারনে আদালতে এই বিপুল পরিমাণ মামলা রয়েছে। আদালতে মামলা থাকলে জমির নামজারী করা যায়না। কিন্তু মানুষের ভূমির ব্যাপারে অজ্ঞতার কারনে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে নাম জারীর জন্য আবেদন করেন। আইনের কারনে এইসব আবেদনের নাম জারী খতিয়ান সৃজন করা যায়না। তিনি বলেন সরকার ১শ ৮০ দিনের কর্মযজ্ঞের মধ্যে ভূমিসেবা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটা দেশের মানুষের জন্য সীমাহীন উপকার বয়ে আনবে বলে উল্লেখ করে হাটহাজারীর ৫টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ৯০ ভাগ উন্নয়ন করা আদায় করে দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছেন।
প্রধান অতিথি আরো বলেন সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি নির্দেশনায় মানুষের ভোগান্তি লাঘবের জন্য উপজেলার আওতাধীন ৫টি ভূমি অফিসে গণশুনানির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই উপজেলায় ভূমির জটিলতা নিরসনে জরিপ কার্যক্রম দেওয়াননগর মৌজার মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়ন ও মৌজায় জরিপ কার্যক্রম করা হবে। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রত্যেক ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন জনভোগান্তি লাঘবে ১৭টি ভূমি সেবা কেন্দ্র কাজ করছে বলে ও তিনি মন্তব্য করেন।