কুড়িগ্রামের উলিপুরে আবারো তেঁতুলগাছের মগডালে উঠেছেন আলোচিত সেই গৃহবধু। ঘটনাটি ঘটেছে, সোমবার (৬ মে) উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই আনন্দবাজার এলাকায়।
এর আগে গত ৬ মে তিনি তেঁতুলগাছের মগডালে উঠে দেশব্যাপী আলোচনায় এসেছিলেন। সেই সময় যুগান্তরসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গোড়াই আনন্দবাজার এলাকার আবু সাইদের স্ত্রী (সাজেদা বেগম (৪৩) রোববার ভোর রাত আনুমানিক ৫টার দিকে নিখোঁজ হন। এরপর সোমবার সকালে প্রতিবেশি রাজেন্দ্র নাথের পুকুর পাড়ের উচু তেঁতুল গাছের ডালে আবারো তাঁকে দেখতে পান এলাকাবাসী। সকাল ১১টায় দিকে নিজের ইচ্ছায় গাছের নিচে থাকা পুকুরে লাফিয়ে পড়েন তিনি । পরবর্তীতে নিজে সাঁতরিয়ে পারে উঠে বসে পড়েন। বর্তমানে তিনি সুস্থ্য রয়েছেন।
ওই গৃহবধুর কন্যা সালমা আক্তার সুমি বলেন, আমরা মা কে অনেক মানসিক ডাক্তার দেখিয়েছি কিন্তু তারা কোনো রোগ নির্ণয় করতে পাচ্ছেন না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস মাকে জিনে ভর করেছে। কবিরাজি চিকিৎসা চলছে তার মাঝে এই গাছে উঠার ঘটনা গুলো ঘটছে। মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমি ও পুকুর বিক্রি করে ইতিমধ্যে প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। তবুও কোনো সুফল মিলছে না।
গৃহবধুর জামাতা হামিদুর রহমান জানান, শাশুড়ি আজ গাছে উঠে দীর্ঘ সময় বসে ছিল। এ সময় তার নাতী গাছের নিচে গেলে গাছ থেকে তিনি মিষ্টি ফেলে দেন। কিভাবে তিনি গাছে মিষ্টি পেলেন তা আমরা জানি না। পরবর্তীতে তিনি গাছ থেকে একাই লাফিয়ে পুকুরের পানিতে পরে যান। এ নিয়ে তার চারবার গাছে উঠার ঘটনা ঘটলো। তার জামাতা আরও বলেন, ধর্মে জি¦ন-পরীর অস্তিত্ব রয়েছে। শাশুড়িকে যখনি জিন ভর করে তখনি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে।
দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য রায়হান কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে ওই গৃহবধু নিখোঁজের ৮ ঘন্টা পর তেঁতুলগাছের মগডাল বসে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তিনি দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন।