ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর পৌর এলাকা ১১ নং ওয়ার্ড ভাদুঘর রাস্তার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ময়লা পানি। ময়লা পানির পাশাপাশি একেকপাশে জমা রয়েছে ময়লা আবর্জনার স্তূপ।
এর ফলে রাস্থা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এখানে রাস্থার দুই পাশে কোন ফুটপাত ও নেই। আবর্জনা এবং ময়লা পানির জন্য স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেনা। আবার ফুটপাত না থাকায় স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী বা সাধারণ মানুষ রাস্তার পাশ দিয়ে বা রাস্তার উপর দিয়েও ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। এরকম পরিস্থিতিতে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে এবং সাধারণ মানুষ রাস্তা পারাপার হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার অন্তর্গত ১১ নং ওয়ার্ডের মুন্সিবাড়ি রাস্তা ও দেওয়ানপাড়া রাস্তার উপর দিয়ে আবাসিক এলাকার যাবতীয় ময়লা পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রাস্তার একেবারে পাশ ঘেঁষে বিভিন্ন তরকারি, এবং ফলমূলের আবর্জনা এবং গৃহস্থালী কাজে ব্যবহৃত আবর্জনা ও ময়লা পানির ধারা রাস্থার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ভাদুঘরের স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক কমিশনার আক্তার জাহান বলেন, আমাদের সন্তানেরা স্কুল কলেজে যাওয়ার জন্য এই সড়ক ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু সড়কের উপর দিয়ে আবর্জনা এবং ময়লা পানি থাকায় তারা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেনা।
এই অবস্থায় ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ঠেলাগাড়ি ইত্যাদি যানবাহন চলাচল করে। এই পরিস্থিতিতে যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সড়ক দুর্ঘটণায় প্রাণহানি ঘটলে এর দায় কে নেবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজল মিয়া বলেন, আমরা মুন্সি বাড়ি জামে মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে এই রাস্থার উপর দিয়ে যাতায়াত করি। ঘর থেকে অজু করে বের হলেও সড়কের উপর ময়লা পানি ও আবর্জনার কারণে অনেকের অজুও থাকে না। তিনি বলেন টয়লেটের পানিও সড়কের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। সবার চোখের সামনে দিয়ে এই অরাজক পরিস্থিতি চলতে থাকলেও সবাই দেখেও না দেখার ভান করে রাস্থা পার হচ্ছেন।
ভাদুঘরের আরেক বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, ময়লা পানি প্রবাহিত হবার জন্য ড্রেন থাকলেও আবর্জনার কারণে ড্রেন বন্ধ হয়ে পড়ায় ময়লা পানি সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে সর্বসাধারণের ভোগান্তি হচ্ছে। তিনি বলেন, সম্পুর্ণ মানবিক কারণে আমি মাঝে মঝে ড্রেন পরিষ্কার করি। কিন্তু ড্রেন পরিষ্কার করলেও আবার ময়লা আবর্জনা পড়ে ড্রেন বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে ময়লা আবর্জনা এবং দুর্গন্ধযুক্ত পানি সড়কের উপর দিয়ে নিয়মিত প্রবাহিত হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রতি অনুরোধ জানান।