বগুড়ার শিবগঞ্জে বর্গা চাষির জমির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অসহায় এক কৃষকের ৭ লাখ টাকার থাই জাতের পেয়ারা গাছ কেটে বিনষ্ট করেছে জমির মালিকপক্ষ। দিনদুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক আতাউর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের আমজানি উপরচড়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (৩৭) ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি একই এলাকার শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ১৪১ শতক জমি ৫ বছরের জন্য প্রতি বছর ১ লাখ টাকা পত্তন হিসেবে চুক্তি নেন। এরপর তিনি জমিতে থাই জাতের পেয়ারা রোপণ করেন এবং টানা ৩ বছর ধরে তা লালনপালন করে আসছেন।
কৃষক আতাউরের দাবি, এ বছর গাছে ব্যাপক ফুল এসেছে। এবার ফলন হলে হয়তো তার বহুদিনের দুঃখ কষ্ট ঘুচত। কিন্তু শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে জমির মালিক শফিকুল ইসলাম (৪২) ও তার ভাতিজা হঠাৎ ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাগানের প্রায় ১৪০টি ফলনশীল পেয়ারা গাছ কেটে ফেলেন।
এসময় কৃষক আতাউর বাধা দিলে তাকে হাসুয়া নিয়ে ধাওয়া করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পালিয়ে যান এবং পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়া আতাউর রহমান বলেন, “আমার সন্তানের মতো লালিত গাছগুলো মুহূর্তেই শেষ করে দিলো। এখন আমার পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় নেই।”
এ বিষয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ, “বর্গা চাষির সময় শেষ হয়েছে-এমন অজুহাতে ফলদ গাছ কেটে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। টাকা পাওয়া বা না পাওয়া আলাদা বিষয়, কিন্তু ফসল বিনষ্ট করা অমানবিক কাজ। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।”
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজাম্মান শাহীন বলেন, “ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনার পর এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি কেবল বর্গার মেয়াদ শেষ হওয়া-নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বিরোধ বা উদ্দেশ্য রয়েছে? স্থানীয়রা বলছেন, মেয়াদ শেষ হলেও চুক্তির সময় শেষ হওয়ার আগেই ফলনশীল গাছ কেটে ফেলা প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।