কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ যশোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা

অর্থ-বাণিজ্য জাতীয়

ডেস্ক রিপোর্ট : যশোরের বৃহত্তম চামড়ার মোকাম রাজারহাটে শনিবার ৩০৫ পিস গরুর ও ২১০ পিস ছাগলের চামড়া নিয়ে এসেছিলেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা লক্ষণ চন্দ্র দাস। গড়ে ৮৫০ টাকা করে গরুর চামড়া এবং ৫০ টাকা করে ছাগলের চামড়া বিক্রি করেন। এই দামে চামড়া বিক্রি করে তার কোনোমতে খরচ উঠেছে।

এদিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি এলাকার গোপাল চন্দ্র দাস এক হাজার পিস গরু ও ছাগলের চামড়া নিয়ে এসেছিলেন। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলেও সব চামড়া বিক্রি করে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে শনিবার ছিল ঈদ পরবর্তী প্রথম হাটবার। স্বাভাবিক সময়ে প্রথম হাটবারে লক্ষাধিক গরুর চামড়া ও অর্ধলাখ ছাগলের চামড়া আমদানি হয়। কিন্তু করোনাকালীন লকডাউন ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে শনিবারের হাটে প্রায় ৩০ হাজার গরুর এবং ৩৫ হাজার ছাগলের চামড়া আমদানি হয়েছিল। তবে ঢাকাসহ বাইরের ট্যানারি মালিক ও চামড়ার ব্যাপারীরা এদিন হাটে না আসায় কাঙ্ক্ষিত দাম মেলেনি। সকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবং লকডাউনের কারণে চামড়ার দামও কমে গেছে। এতে খুচরা ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হয়েছেন। এদিন গরুর চামড়া ৩শ’ থেকে ১২শ’ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ২০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়েছে।

সাতক্ষীরার কলারোয়ার কাজীরহাট থেকে ২০ পিস গরুর চামড়া নিয়ে হাটে এসেছিলেন মন্টু মণ্ডল। তিনি জানালেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া কেনার পর লবণ দেয়া, পরিবহন খরচ মিলিয়ে পড়েছে চামড়া প্রতি ৬২০ টাকা। ব্যবসায়ীরা চামড়ার দাম ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকার বেশি বলছেন না। এই দামে বিক্রি হলে তার অনেক লোকসান হবে।

আর ছাগলের চামড়ার দাম উঠছে ১৫-২০ টাকা। অথচ এগুলো কেনা পড়েছে ২৫ টাকা দরে। গরু-ছাগল মিলিয়ে তার লোকসান হয়েছে ১২ হাজার টাকা। ঢাকাসহ বাইরের ব্যবসায়ীরা হাটে না আসায় স্থানীয় ব্যাপারীরা ইচ্ছেমতো দাম বলছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

যশোরের আড়তদার মোস্তাক আহমদ জানান, তিনি শনিবার এক হাজার পিস গরুর চামড়া কিনেছেন গড়ে ৬শ’ টাকা পিস হিসেবে। এই চামড়া ঢাকার ট্যানারিতে বিক্রি করলে তার লাভ হবে।

যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল জানান, ৩/৪ বছর আগেও রাজারহাটে অন্তত লাখ পিস গরুর ও ৫০ হাজার পিস ছাগলের চামড়া আসত। এখন আসছে ২৫-৩০ হাজার পিস গরু ও ৩০-৩৫ হাজারের মতো ছাগলের চামড়া। বাইরের ব্যবসায়ীরা না আসায় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পূঁজি সঙ্কটের কারণে হাট তেমন জমেনি। তারপরেও নগদ টাকায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার বেচাকেনা হয়েছে।

যশোরের ব্যাপারী সাঈদ আহমেদ নাসির শেফার্ড অভিযোগ করে বলেন, ট্যানারি মালিকরা তাদের টাকা পরিশোধ না করায় সব ব্যাপারী নগদ টাকার সঙ্কটে রয়েছেন। যে কারণে চামড়া কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণেও হাট জমেনি।

রাজারহাটের ইজারাদার হাসানুজ্জামান হাসু জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে রাজারহাট ব্যবসায়ীদের ২০ কোটি টাকার ওপরে পাওনা রয়েছে।

যশোর জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানান, ঈদ পরবর্তী কোরবানি পশুর চামড়ার হাট স্বাভাবিক রাখতে ঈদের আগেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মিটিং করে কমিটি করা হয়। সেই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাজার তদারকি করা হচ্ছে। লকডাউনে চামড়া আনা নেয়ায় যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া চামড়া পাচার রোধে বিজিবিসহ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *