সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কালকিনিতে সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা সরদার গ্রেপ্তার উলিপুরে আবারো তেঁতুলগাছের মগডালে আলোচিত সেই গৃহবধু চাঁপাইনবাবগঞ্জে সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে চোখের লেন্সসহ ছানি অপারেশনের উদ্বোধন জঙ্গল সলিমপুরে উন্নয়নের নতুন অধ্যায়—সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে সড়ক নির্মাণ কাজ সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০: বসতবাড়িতে হামলা সালথায় দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সাপাহারে সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে মতবিনিময় সভা বরগুনায় ব্যবসায়ীর মস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার শ্রীপুরে আ’লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আনিছের জানাজায় মানুষের ঢল সংসদে তিতাসে খাদ্য গুদাম নির্মাণের দাবি উত্থাপন করলেন অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজনের সঙ্গে ত্রিশালে বিক্রি হচ্ছে পতাকা ও জার্সি বিক্রি রাস্তার উপর ময়লারস্তুপ, ময়লা পানিতে সয়লাব, পথচারী চলাচলে ভোগান্তি, পৌর কর্তৃপক্ষ নীরব নান্দাইলে ওয়ার্ল্ড ভিশনের গাছের চারা বিতরণ চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতা আটক, আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ ক্রিকেটার নাসির-তামিমার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি: রায়ের আগে আসামিপক্ষের ‘নিশ্চিত খালাস’ প্রচারণায় জনমনে বিভ্রান্তির তীব্র নিন্দা গুলিবিদ্ধ সুজনের পাশে দাঁড়ালেন ঢাকার ডিসি নালিতাবাড়ীতে ২ দিনের ব্যবধানে ৫ মাদরাসা ছাত্র নিখোঁজ, এলাকায় আতঙ্ক সরিষাবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু জামালপুরে জজের সহায়তায় হয়রানির অভিযোগ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন ভেঙে পড়া গোয়াতলা বেইলি ব্রিজ পরিদর্শনে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স গোয়াইনঘাটে তিনদিন ব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন পাইকগাছায় স্ত্রীর সামনে প্রসাব করার প্রতিবাদে প্রকাশ্য জনসম্মুখে নৃশংসভাবে যুবককে হত্যা কৃষিপণ্য রপ্তানিতে গোলকধাঁধা: আমলাতন্ত্র নাকি বাস্তব সংকট? বাংলাদেশে গৃহপালিত প্রাণীতে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি: বাকৃবির গবেষণা গৃহবধূকে যৌন নিপীড়নের মামলায় গ্রেপ্তার যুবক একদিন পরই জামিনে মুক্ত ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ফের অবৈধ বালু উত্তোলনের শঙ্কা, নদীভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী রেমিট্যান্স সমৃদ্ধ ফটিকছড়িতে নেই কোন সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ফটিকছড়ির বনাঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ কাঠ জব্দ চট্টগ্রামে ১১দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি বন্দরে লাশ নিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও, দারোগা ক্লোজড

রবিউল আউয়াল মাসের শেষ জুমা: সারাজীবনের পথনির্দেশ

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:৫৯ অপরাহ্ন

ইসলামের প্রতিটি মাসের আলাদা গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য রয়েছে। প্রতিটি মাস মুসলিম উম্মাহর জীবনে আলাদা শিক্ষা ও আমল প্রদানের সুযোগ এনে দেয়। তবে বিশেষভাবে রবিউল আউয়াল মাস মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল একটি সাধারণ মাস নয়, বরং এটি আমাদেরকে নবীজী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সা.)-এর আগমন স্মরণ করায়, যিনি মানবজাতিকে সত্য, ন্যায়, দয়া, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা এবং মানবিক শিক্ষার অমূল্য দিকগুলো প্রদর্শন করেছেন। নবীজীর জীবন ও আদর্শ মুসলিম উম্মাহর জন্য সারাজীবনের পথনির্দেশ।

বিশেষত রবিউল আউয়ালের শেষ জুমা আমাদের মনে করিয়ে দেয় নবীজীর আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব। যদিও শরীয়তে আলাদা কোনো বিশেষ আমল নির্ধারিত নেই, এই দিনটি আত্মসমালোচনা, তওবা এবং নবীর সুন্নাহ অনুসরণের প্রতিজ্ঞা করার জন্য একটি অনন্য সুযোগ। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা সারাবছর নবীর শিক্ষা কতটা বাস্তবায়ন করেছি। শেষ জুমা আমাদেরকে স্মরণ করায় যে ইমান ও আমল, ন্যায় ও সত্যবাদিতা, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা সবসময় আমাদের জীবনের অংশ হতে হবে। এটি শুধু ধর্মীয় কার্যকলাপের জন্য নয়, বরং নৈতিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের জন্য দিকনির্দেশক।

শেষ জুমার শিক্ষা ও তাৎপর্য

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন:
“নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকালকে আশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।- (সূরা আল-আহযাব ৩৩:২১)

রাসূল (সা.)-এর জীবন আমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশনা। এটি কেবল রবিউল আউয়ালের শেষ জুমা বা বিশেষ কোনো দিনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমাদের সারাজীবনের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। নবীজীর জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি কিভাবে একজন মানুষ ন্যায়ের পথে চলতে পারে, সত্যের সাথে অটল থাকতে পারে, এবং মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ স্থানে রাখতে পারে। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কার্যকর করতে হবে যাতে আমরা ব্যক্তি ও সমাজ উভয় ক্ষেত্রেই সঠিক ও নৈতিক জীবনযাপন করতে পারি।

সারাবছরের দায়িত্ব

১. ঈমান ও আমল দৃঢ় রাখা
ইসলামের ভিত্তি হলো পাঁচটি স্তম্ভ:
১. শাহাদাত – আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল।
২. নামাজ – নিয়মিত নামাজ কায়েম করা।
৩. যাকাত – দারিদ্র্যহীন ও মানবিক সহায়তার জন্য।
৪. রমজানের রোজা – আত্মসংযম ও ধৈর্য্য চর্চা।
৫. হজ্জ – যা সক্ষমদের জন্য ফরজ।
(সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৮; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৬) এই পাঁচটি স্তম্ভ আমাদের জীবনকে ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল করে। ঈমান ও আমল দৃঢ় থাকলে ব্যক্তি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতি সচেতন থাকে। নামাজ, রোজা ও হজ্জ আমাদের জীবনে শৃঙ্খলা ও নিয়মিততা নিয়ে আসে, যা নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংযুক্ত।

২. সুন্নাহ অনুসরণ

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:- যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহকে ভালোবাসে, সে-ই আমাকে ভালোবাসে। আর যে আমাকে ভালোবাসে, সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে।(সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৬৭৮) সুন্নাহ অনুসরণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আলোকিত করে। এটি কেবল নামাজ বা রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা চর্চার মধ্যেও প্রযোজ্য। সুন্নাহ আমাদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ, নৈতিক ও মানবিক জীবনের পথে পরিচালিত করে।

৩. সত্যবাদিতা ও ন্যায়ের চর্চা

রাসূল (সা.) বলেছেন:- তোমরা সত্যবাদী হও, কারণ সত্যবাদিতা মানুষকে নেকীর দিকে নিয়ে যায় এবং নেকী মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যায়। আর মিথ্যা মানুষকে পাপাচারের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপাচার মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়।-(সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬০৭)

সত্যবাদিতা সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করে, নৈতিকতা ও সততার সঙ্গে জীবনযাপন করতে শেখায়। সত্যবাদী ব্যক্তি কেবল নিজের জন্য নয়, বরং সমাজের জন্যও আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে।

৪. মানবসেবা ও সহমর্মিতা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:-মানুষের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে মানুষদের উপকারে আসে।”
(আল-মুজামুল আউসাত, তাবারানি, হাদিস নং ৫৭৮৭) মানবসেবা কেবল দান-সদকা নয়; প্রতিদিনের আচরণ, সহানুভূতি, ন্যায়ের প্রয়োগ ও সততা মানবসেবার অংশ। এটি মুসলিম সমাজকে শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল করে এবং ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের কল্যাণ নিশ্চিত করে।

৫. ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতা
আল্লাহ কুরআনে বলেছেন:-নিশ্চয়ই মুমিনরা একে অপরের ভাই।(সূরা হুজুরাত ৪৯:১০)

রাসূল (সা.) বলেন:-তোমরা ঈর্ষা করো না, একে অপরের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপর থেকে মুখ ফিরিও না। তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই হও।-(সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৬০)

ভ্রাতৃত্ব ব্যক্তি ও সমাজকে শক্তিশালী করে এবং সহমর্মিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি করে। এটি মুসলিম সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সম্পর্ককে দৃঢ় করে।

৬. দাওয়াত ও সত্য প্রচার
আল্লাহ তাআলা বলেছেন:-তুমি তোমার প্রভুর পথে আহ্বান কর প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে উত্তমভাবে বিতর্ক কর।-(সূরা নাহল ১৬:১২৫) রাসূল (সা.) বলেছেন:-তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।-(সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৩৪৬১) দাওয়াত কার্যক্রম আমাদের দায়িত্বশীল ও সচেতন মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলে। এটি কেবল প্রচার নয়, বরং সঠিক পথে চলার আহ্বান এবং নৈতিক শিক্ষার বিস্তার।

আত্মসমালোচনা ও পরিবর্তন

রবিউল আউয়ালের শেষ জুমা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা কতটা নবীর (সা.) আদর্শ মেনে চলেছি। আত্মসমালোচনা বা মুহাসাবা আমাদের ইমান ও আমল দৃঢ় করতে সাহায্য করে।

রাসূল (সা.) বলেছেন:-বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের আত্মার হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।-(সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৪৫৯)

আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আমরা আমাদের দোষত্রুটি ও কমজোরি চিহ্নিত করে উন্নতি সাধন করতে পারি। এটি শুধুমাত্র শৃঙ্খলা নয়, বরং আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রধান মাধ্যম।

পরিশেষে বলতে চাই, রবিউল আউয়ালের শেষ জুমা আমাদের জন্য আত্মবিশ্লেষণ ও নতুন প্রতিজ্ঞার এক অনন্য সুযোগ। এই দিনটি শুধু একটি জুমার নামাজের অনুষ্ঠান নয়, বরং আমাদের ইমান ও নৈতিক চর্চা পুনঃমূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। নবীজীর জীবন আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা এবং মানবসেবার চর্চা ব্যক্তি ও সমাজে শান্তি ও কল্যাণ আনতে পারে।

সত্যবাদিতা শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণিত হতে হবে। ন্যায়পরায়ণ আচরণ ও মানবসেবার মাধ্যমে আমরা সমাজে আলোর পথ প্রদর্শন করতে পারি। ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং সমাজে নৈতিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা পায়। দাওয়াত ও সত্য প্রচারের মাধ্যমে আমরা অন্যদেরও আলোর পথে চলার আহ্বান দিতে পারি।

এই শেষ জুমার দিনে আমাদের উচিত নিজের আত্মার হিসাব নেওয়া, অতীত বছরের ভুলত্রুটি বিশ্লেষণ করা এবং নতুন বছরকে নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপনের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু করা। এটি শুধু আত্মসমালোচনা নয়, বরং আমাদের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নতির প্রধান মাধ্যম।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সারাবছর নবীজীর আদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন, যেন আমরা সত্য, ন্যায়, ভ্রাতৃত্ব ও মানবসেবার মাধ্যমে সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারি। আমিন।

লেখক, কলাম লেখক ও গবেষক
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি


এই বিভাগের আরো খবর