সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ থেকে : অবসর গ্রহনের পর পেনশনের টাকায় অনেকেই করেন বাড়ি আর কেনেন গাড়ি। আবার অনেকেই ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করে রাখেন বিপদ-আপদের কথা ভেবে। অনেকেই আবার দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করেন। কেউবা আবার ব্যক্তিক্রমী উদ্যোগ গ্রহন করেন। এমনি একটি বতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহন করেছেন মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের আদমপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাইয়ুম। আদমপুর বাজারে তার বাসার গাড়ির গ্যারেজের দোতলায় নিজের তত্ত্বধায়নে মাওলানা আব্দুস সোবহান গণ পাঠাগার নামে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন ২০১৪ সালে। এই গণ-পাঠাগারটির ব্যবস্থাপনা কমলগঞ্জে প্রশংসার দাবি রাখছে। ৬৭ বছর বয়সী এই বক্তি মণিপুরী মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত প্রথম একজন চিকিৎসক। তিনি কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছিলেন। এলাকায় তার পরিচিতি ডাক্তার সাহেব হিসেবে। কমলগঞ্জের অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র আদমপুর বাজারে এই ডাক্তার সাহেব জ্বালিয়ে রেখেছেন জ্ঞানের প্রদীপ স্বরূপ তার বাবার নামের গণপাঠাগারটি। তার বাড়ির প্রধান ফটক সংলগ্ন গাড়ির গ্যারেজ ঘরের দোতলায় দেখা মেলে পাঠাগারটির। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে দেখা যায়, বিভিন্ন দুর্লভ ইসলামী বই ও চিকিৎসা সেবার বই দিয়ে সাজানো রয়েছে পাঠাগারের আলমারিগুলো। এ পাঠাগারের বৈশিষ্ট হলো অনেক পুরাতন ইসলামী বইয়ের সংগ্রহ। পাঠাগারের উদ্যোক্তা অভসরপ্রাপ্ত ডাক্তার আব্দুল কাইয়ুম সব সময় অন্যদের বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করে চলেছেন দিনের পর দিন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজে নিয়োজিতও রয়েছেন। তা ছাড়া কারও কোনো বিশেষ তথ্যের প্রয়োজন হলে সঠিক তথ্য দিয়েও এলাকার মানুষকে সাহায্য করেন। তার এই পাঠাগারটি সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
আলাপকালে ডাক্তার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, লাইব্রেরী আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর নিয়মিত পাঠকদের জন্য হালকা চা-নাস্তার ব্যবস্থা রাখবেন। তবে পাঠকরা নিজেরা চা তৈরি করে পান করতে হবে। পাঠাগারে চা পান করবে আর পছন্দের বই পড়বে। কিছুটা সময় হলেও মানুষ পাঠাগার থেকে উপকৃত হবে। এভাবে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র। তিনি ভাবতেন সমাজের জন্য কিছু করবেন। প্রত্যন্ত এলাকায় পাঠাগার না থাকলে বই পড়ার সুযোগ নেই। বই কিনে পড়ার সামর্থ সবার নেই। মানুষজন অবসরে বিনামূল্যে বই পড়ানোর জন্য পাঠাগার স্থাপন করেছেন। তিনি এই সুফল মানুষজনকে দিতে চান।