গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচলা গ্রামে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে একটি পিকআপে করে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল বাগচলা এলাকায় প্রবেশ করে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী ধাওয়া দেয়। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে গেলেও তিনজনকে আটক করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা হলেন—
আজাহারুল ইসলাম (৩৬), শ্রীপুর উপজেলার বদনী ভাঙ্গা এলাকার সরাফত আলী ও সুফিয়া খাতুনের ছেলে;
কৃষ্ণ (৪৬), সিলেট জেলার কোতোয়ালি থানার ঘাশিটোলা এলাকার কমলা কান্ত ও চিনি বালার ছেলে;
এবং সেলিম (৩৮), পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার কলাগাছিয়া এলাকার আব্দুল বারেক ও পারুল বেগমের ছেলে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কালিয়াকৈর থানার অধীন ফুলবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর দাবি, ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল পিকআপে করে চোরাই সরঞ্জামসহ এলাকায় প্রবেশ করেছিল। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গ্রামবাসী তাদের আটক করে। পরে গণপিটুনিতে তারা গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আজাহারুল ইসলাম আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এবং তাঁকে আগে থেকেই এলাকা থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম পিপিএম বলেন, চুর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন নিহত হয়েছে। তাঁর দাবি, নিহতরা আন্তজেলা চোর ও ডাকাত দলের সদস্য। এর আগে তালচালা গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে আবু বকর এর বাড়ি থেকে তিনটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে এবং এ নিয়ে মামলা হয়।
এছাড়া এলাকাবাসীর তথ্যমতে আবু বক্করের বাড়ি থেকে আরও একাধিক গরু এবং ‘ড. বাহাদুর’ নামে পরিচিত ব্যক্তির বাড়ি থেকেও তিনটি গরু চুরির অভিযোগ রয়েছে।
ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনায় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িতদের পরিচয় এবং পূর্ববর্তী চুরির অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে তদন্ত চলছে।