শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ঝালকাঠিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী ব্যবসায়ী আটক পাইকগাছায় নতুন মৎস্য আড়ৎ’র উদ্বোধন শ্মশান থেকে মাথার খুলি চুরির ঘটনায় ৩ হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার, খুলি উদ্ধার দুর্নীতির মামলায় সাবেক মেয়র রমজান আলী কারাগারে পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া ছাত্রীকে অপহরণের মূলহোতা নাঈম গ্রেফতার মুন্সীগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই যুবকের মৃত্যু লালমোহনে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে নাগরিক সংবর্ধনা নবীনগরে অটো-স্ট্যান্ডে জিবির নামে চাঁদা তোলা বন্ধ- ইজারা মওকুফ করায় সাংসদকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ র‍্যালি সুনামগঞ্জে খুশির জোয়ার: ‘দুর্নীতিবাজ’ ডিসির বিদায়ে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল আনোয়ারায় মাদকবিরোধী অভিযান: দেশীয় মদে জড়িত চারজন আটক বিদায়ের বেলায় অশ্রুসজল চোখ, স্বপ্নে ভরসা রেখে পথচলা রাজধানীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল জামালপুর সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩ লাখ টাকা প্রতারণা: চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার আলামত কাউখালীতে প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ উন্নয়নমূলক কোনো কাজে দুর্নীতি করলে তাকে ক্ষমা করা হবে না: গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সালথার ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার দাখিল পরিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠিত ভাণ্ডারিয়ায় বায়নের খাল কচুরিপানার দখলে ৪০ হাজার পরিবার নিত্য ব্যবহার্য পানি সংকটে বাড়ছে রোগব্যাধি সুনামগঞ্জে লক্ষ্য এখন বিষমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য কৃষি কিশোরগঞ্জে ধর্ষণ চুরি মামলার আসামী আটক নিজ স্ত্রীকে হত্যা করে দেহ খন্ডবিখন্ড,স্বামী গ্রেফতার  সরিষাবাড়ীতে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা -২০২৬ অনুষ্ঠিত নবীনগরে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে বর্ষবরণ উৎসব ও গণসংগীত অনুষ্ঠিত  বগুড়ার শিবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-২ চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারে সাংগ্রাঁই জল উৎসবে আনন্দে মাতোয়ারা হাজার দর্শক সুস্থ জীবন গঠনে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সকলকে আন্তরিক হতে হবে : ফারাহ শাম্মী ঐতিহ্য-উচ্ছ্বাসে পহেলা বৈশাখ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য বহিঃ প্রকাশ: প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান মুকুল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত, সংবর্ধনায় সিক্ত এ্যাড.ভট্টু লালমোহনে আন্তঃজেলা মাদক ও জাল টাকার ব্যবসায়ী আটক পারকি পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে আনোয়ারায় মানববন্ধন বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের লক্ষাধিক সদস্যপূর্তি অনুষ্ঠান-২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬

আলোর দিশারী: বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবনগাথা

ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:৪০ অপরাহ্ন

মুসলিম উম্মার ইতিহাসের অবক্ষয়, বিচ্ছিন্নতা, অজ্ঞানতা ও বহির্শত্রুর আক্রমনের যুগের, হিজরী ৬ষ্ঠ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম, ফকীহ ও সূফী ছিলেন কুতুবে রব্বানি মাহবুবে সুবহানি শায়খ সাইয়্যিদ আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)তিনি ৪৭১ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর পিতার নাম হযরত আবু সালেহ মুছা জঙ্গি (রাহ.) ও মাতার নাম সৈয়দা উম্মুল খায়ের ফাতিমা (রাহ.)। স্রষ্টার চূড়ান্ত দীদার লাভের উদ্দেশ্যে ১১ রবিউস সানী ৫৬১ হিজরী রোজ সোমবার এবং ৯০ বৎসর বয়সে ইন্তেকাল করেন।তিনি হাম্বলী মাযহাবের একজন বড় ফকীহ ছিলেন। এছাড়া তাসাউফের বড় সাধক ও ওয়ায়িয ছিলেন।তিনি মুসলিম বিশ্বের পতন যুগে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইসলামের শাশ্বত আদর্শকে। তার মাধ্যমেই ইসলাম পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছিল। এ জন্যই তার উপাধি ছিল মুহীউদ্দীন। হজরত আলী (রা.)-এর শাহাদাতের ৭০০ বছর পর হজরত বড় পীরের মাধ্যমেই সেই জায়গা পূরণ হয়েছে।

> বাল্যশিক্ষা : হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-এর বাল্যশিক্ষা মক্তবে শুরু হয়। প্রথম দিন মক্তবে গিয়ে দেখেন অন্যান্য ছাত্রদের ভিড়ে বসার কোনো জায়গা নেই। হঠাৎ করে উপর হতে গায়বী আওয়াজ আসল, হে মক্তবের ছাত্ররা! আল্লাহর অলির বসার স্থান প্রসস্ত করে দাও। গায়বী আওয়াজ আসার সাথে সাথে সকল ছাত্ররা চেপে বসলেন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) এর বসার ব্যবস্থা হয়ে গেল। প্রথম দিনেই অবাক কা- মক্তবের শিক্ষক হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)কে আউযু বিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ সবক দানের সাথে সাথে হযরত বড় পীর কোরআন মজিদের প্রথম ১৮ পাড়া পর্যন্ত মুখস্ত বলে ফেললেন। মক্তবের শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন, হে বৎস! তুমি কিভাবে কোরআন মুখস্ত করেছো! আজ মক্তবে তোমার প্রথম দিন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) বলেন, আমার মাতা ১৮ পাড়ার পর্যন্ত কোরআন মুখস্ত করেছিলেন। আমি গর্ভে থাকাকালীন সময় তিনি কোরআন পাঠ করতেন। আমি মায়ের তেলাওয়াত শুনে শুনে ১৮ পাড়া পর্যন্ত মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়ে মুখস্ত করে ফেলেছি।

> হিজরত ও সত্যবাদিতা : তৎসময় কালে ইরাকে ভালো পড়াশুনা ও ব্যবসার সুযোগ ছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে পড়াশুনা ও ব্যবসার জন্য মানুষ বাগদাদ আসত। পড়াশুনার উদ্দেশ্যে হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) ব্যবসায়িক কাফেলার সাথে বাগদাদ যাওয়ার পথে ডাকাতের কবলে পড়েন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)কে ডাকাত সর্দার জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সাথে কি আছে? তিনি বললেন, আমার নিকট ৪০টি স্বর্ণ মুদ্রা আছে। ডাকাত সর্দার আশ্চার্যন্বিত হয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন হে যুবক! তুমি তো মিথ্যা কথা বলে আমার নিকট থেকে স্বর্ণ মুদ্রা লুকাতে পারতে। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) বললেন, মিথ্যা কথা বলতে আমার মা নিষেধ করেছেন। এ কথা শুনে ডাকাত সর্দার বললেন, মায়ের আদেশ যুবক তুমি এভাবে পালন কর। নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর আদেশ আরো যতেœর সাথে পালন করো। আর আমি ও অন্যান্য ডাকাতরা তো আল্লাহর আদেশই পালন করি না। মায়ের কথা তো অনেক দূরের কথা। এই বলে ডাকাত সর্দার আপসোস করতে থাকেন ও বলেন, হে বালক ! তুমি সাধারণ কোন মানুষ না। হে বালক তুমি আমাকে কলেমা পড়াও। ডাকাত সর্দারের সাথে আরো ৬০ জন অশ্বারোহী ডাকাত ছিলেন। তারাও কলেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলেন।

> ইবাদতের কঠোর সাধনা : তিনি একাধারে ৪০ বছর পর্যন্ত ইশার নামাজের অযু দিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করেছেন। প্রত্যহ শেষ রাত্রে পাঠ করতেন, আল মুহিতুল আলমে, আর রাব্বুশ শহীদ, আল হাসীবুল ফায়্যায়িল খাল্লাকি, আল খালিকু, আল বারিউ, আল মুসাব্বিরু। উক্ত দোয়া পাঠ করার সাথে সাথে লোক চক্ষুর সামন থেকে অদৃশ্য হয়ে যেতেন। তিনি রাতের একটা সময় জিকির ও মোরাকাবা করে কাটাতেন। যৌবনের অধিকাংশ সময় রোজা রেখে কাটিয়েছেন। যখন নফল নামাজ আদায় করতেন সুরা ফাতেহার পর সূরা আর রহমান, সূরা মুজাম্মিল কিম্বা সুরা ইখলাস পড়তেন। তন্দ্রার ভাব আসলে দেখে দেখে কোরআন তেলাওয়াত করতেন।
> কাদেরীয়া তরিকার প্রবর্তক : হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছেন। মুসলামানকে ভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে কোরআন সুন্নাহ ভিত্তিক মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। মানুষকে আল্লাহ ও রাসূল (সা.) মুখী করার জন্য বিভিন্ন আমল বাতলিয়ে দিতেন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) যখন দুনিয়ার জীবন ত্যাগ করে পরপারে যান। তখন হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর ভক্ত অনুসারীরা তাঁর আমল ও চরিত্রকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে কাদেরীয়া তরিকা প্রবর্তন করেন। সে সময়কাল থেকে কাদেরীয়া তরিকার প্রচলন আমাদের দেশেও প্রচলিত হয়েছে।
> বেলায়াতের উচ্চস্তরের প্রত্যেক জামানায় ৩১৩ জন অলি জমিনে বিদ্যমান থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর শান মান প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত থাকেন। সূফীতাত্ত্বিক পরিভাষায় তাঁদের আখইয়ার বলা হয়। ৩১৩ জন অলির মধ্যে ৪০ জন আবদাল, ৭ জনকে আবরার, ৫ জনকে আওতাদ, ৩ জন নকীব, ৪ জন নুজবা ও ১ জন গাউসূল আজম থাকেন। যাকে কুতুবুল আউলিয়া বা সুলতানুল আউলিয়া বলা হয়। বাকিরা অন্যান্য সাধারণ পর্যায়ের অলি। তৎজমানায় গাউসগণের মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত, বেলায়েতে ওজমা ও গাউসিয়তে কোবরার সুমহান আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি হচ্ছেন হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)।
> বেলায়েতের ব্যাপকতা : হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) রুহানী ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে ইসলামের প্রচার প্রসারে ৩৪২ জন আউলিয়া সারা বিশ্বে আল্লাহর সৃষ্টির খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। ইহার মধ্যে মক্কা-মদিনাতে ১৭ জন, ইরাকে ৬০ জন, সিরিয়াতে ৩০ জন, মিশরে ২০ জন, পশ্চিমাদেশে ২৭ জন, পূর্বদেশীয় অঞ্চলে ২৩ জন, আবিসিনিয়াতে ১১ জন, ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীরাংশে ১৭ জন, লংকাতে ১৭ জন, কুহেকাফে ৪০ বাহরে মুহীতে ৪০ জন।

>উপাধিসমূহ : হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর বেলায়েতের পরিচিতি বিশ্বব্যাপী ছিল। তিনি বিভিন্ন দেশে মানুষের নিকট ভিন্ন উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর উপাধিগুলো হলো যথাক্রমে- গাউসূল আজম, বড় পীর, মাহবুবে সোবহানী, মহিউস সুন্নাহ, কুতুবে রাব্বানী, ইমামুল আউলিয়া, সৈয়দ, পীর, মীর,মহিউদ্দিন, কামিউল বিদায়াত, নূরে হক্কানী, পীরানে পীর, জিলানী ইত্যাদি।
> রচিত গ্রন্থাবলি : আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.) শুধু শরিয়ত ও মারফতের পণ্ডিত ছিলেন না। তিনি কাব্য, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, ভূগোল বিষয়েরও পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর রচিত বহু গ্রন্থ রয়েছে। এসব গ্রন্থের মধ্যে ‘ফতহুল গায়েব গুনিয়াতুত তালেবীন’, ‘ফতহুর রববানী’, ‘কালীদায়ে গাওসিয়া’ উল্লেখযোগ্য।

পরিশেষে, ০৪ অক্টোবর ২০২৫ শনিবার (১১ রবিউস সানি ১৪৪৭ হিজরি) পবিত্র ফাতিহা-ই-ইয়াযদাহম পালিত হবে। ইসলামে “ফাতিহা” বলতে বোঝানো হয় মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা এবং ঈসালে সওয়াব পৌঁছানো। আর “ইয়াযদাহম” ফারসি শব্দ, যার অর্থ একাদশ। ৫৬১ হিজরি মুতাবিক ১১৮২ খ্রিষ্টাব্দের ১১ রবিউস সানি তারিখে বড়পীর হযরত শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকালের স্মৃতিতে প্রতিবছর রবিউস সানীর ১১ তারিখে মৃত্যুবার্ষিকী, উরস ও ফাতিহাখানির আয়োজন করা হয়, যাকে বলা হয় ফাতিহা ইয়াযদাহম।

তবে ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে জন্মবার্ষিকী বা মৃত্যুবার্ষিকী পালন ও উরস করা সরাসরি সমর্থিত নয়। কিন্তু তিনি ছিলেন উচ্চ মর্যাদার মহান অলী ও বুযুর্গ। তাই নির্দিষ্ট তারিখের অনুসরণ না করে যে কোনো দিন তাঁর জন্য দোয়া করলে এবং জায়েয উপায়ে ঈসালে সওয়াব করলে তা সওয়াবের কাজ হবে এবং তাঁর রূহানী ফয়েজ ও বরকত লাভের ওসীলা হবে।

আমাদের উচিত তাঁর আদর্শ ও শিক্ষাগুলো ব্যক্তিজীবনে ধারণ করা। যদি আমরা তাঁর চরিত্র, ত্যাগ ও ইলম অনুসরণ করতে পারি, তবে আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহান অলী হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর আদর্শ বাস্তবায়নের তৌফিক দিন। আমিন।

লেখক,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ,জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি।
চিকিৎসক, ইসলাম বিষয়ক গবেষক


এই বিভাগের আরো খবর