রাজশাহীতে এবারের মৌসুমে আশ্বিন ও কার্তিক ঋতুতেই শীতের উপলব্দি হচ্ছে। শীত মানেই সন্দর্ভ, শীত মানে গৃঢ়ার্থ আর কবি ও লেখকের লিখনির বহিঃ প্রকাশ। শীতের আগমনে আমোদিত হওয়ার ভাব্যঞ্জক। এই মৌসুমেই প্রকৃতির মাঝে আনান্দ উল্লাসে মেতে উঠে গ্রাম গঞ্জের মানুষ। গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন শহরের মানুষ গুলোও ভিড় জমায় গ্রামের পথে প্রান্তরে। কবির কবিতায় পৌষ পার্বনে পিঠা খাবারের কথা উঠেছে। বিশ্বে এক মাত্র ষড় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ কিন্ত ভৌগলিক কারনে এই দেশেও ৬ ঋতুর দেখা মিলছে না।
এই জেলায় মোট ১১ লক্ষ ৮০ হাজার ১৮টি গাছ রয়েছে। এই মৌসুমে প্রতি গাছ থেকে ২০ কেজি করে রস উৎপাদন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। যা থেকে ৮ কেজি গুড় উৎপাদন হবে। মোট উৎপাদন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৮শত ৬৪ মেট্রিক টন। বাজারের বিক্রয় মূল্য ধরা হয়েছে ১৪১ কোটি ৮২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।
সম্প্রতী রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা খেজুর গাছ প্রস্তুত করছেন। জেলার ৯টি উপজেলার খেজুর চাষীরা রস সংগ্রহে গাছ তৈরীতে প্রস্তুতী নিচ্ছে। শীতের প্রভাব বেশি না হলে রস সংগ্রহ ভালো হয় না। শীতে ঠান্ডার প্রভাব বেশি হলে রসের ঘনত্ব ও মিষ্টি বেশি হয় এবং গুড় উৎপাদন ভালো হয়। শীতের মৌসুমে খেজুরের গুড়ের কদর বৃদ্ধি হয়। প্রাকৃতি উপায়ে তৈরী খেজুরের গুড়ের রঙ্গ ভালো হয় না কিন্ত এই গুড় তৈরীতে খরচ বেশি হয়।
তবে অসাদু ব্যবসায়ীদের কারনে ভেজাল মুক্ত গুড় চড়া দামে ক্রয় করতে চাই না। অথচ বিভিন্ন রাসায়সিক উপাদন মিশ্রিত গুড় গুলো অন্যান্য জেলার মানুষ গুলো বেশি পছন্দ করে। যার কারনে বেশির ভাগ খেজুর চাষীরা গুড় তৈরী থেকে বিরত থাকছে। গ্রাম গঞ্জের বেশির ভাগ কৃষক তাদের জমি থেকে খেজুর গাছ কেটে ফেলছে। পূর্বে তুলনাই খেজুর গাছের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। কৃষি দপ্তর থেকে কোন ধরনে প্রণোদনা পাওয়া যায় না। তাছাড়া বিবিধ সমস্যার রয়েছে বলে জানান, জেলার বিভিন্ন খেজুর গাছ চাষীরা।
জেলার বিভিন্ন এলাকার খেজুর ব্যবসায়ী ও চাষীরা বলেন, সরকারী প্রনোদনা না থাকার কারনে খেজুরের চাষীরা এই গাছের চাষাবাদ থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। কৃষি দপ্তরের পরামর্শ ব্যাতীত কোন ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছে না চাষীরা। প্রতিনিয়ত খেজুর গাছ গুলো কেটে ফেলছেন কৃষকরা। যার কারনে খেজুর গুড়ের তৈরী শীতের পিঠা ও পায়েস পূর্বের ন্যায় সচরাচর দেখা যায় না। আধুনিকতার প্রতিযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়ের তৈরী পিঠা পায়েস এখন দুর্লভ খাবার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান বলেন, সরকারী ভাবে খেজুর গাছ চাষাবাদ বা গুড় উৎপাদনে কোন ধরনে প্রণোদনা নেই। তবে সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৫শত ৯০টি গাছ রয়েছে। বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল সুলতান বলেন, ৭৮ হেক্টর জমিতে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯শত ৫০ টি গাছ আছে। যা প্রতি হেক্টরে ১৬.২০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন হিসাবে ১২৬৪ মেঃ টন গুড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
রাজশাহীর কৃষি দপ্তরের ডিডি পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, জেলা শহর এবং ৯টি উপজেলায় কম বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। এই ফসলটি শীত মৌসুমে চাষাবাদের কারনে অনেক কৃষক এই ফসল উৎপাদন থেকে বিরত থাকছে। আধুনিকতার সময় সকল কৃষক তাদের চাষাবাদ ধারাবাহিকতা রাখতে চাই। যার কারনে অনেকে কৃষক খেজুর গাছ গুলো কেটে ফেলছেন। তবে প্রত্যেক কৃষি অফিস থেকে চাহিদা মতো পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।