বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে পিরোজপুরের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন এক অনন্য নাম। তরুণ বয়সে ছাত্রদল থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি শুরু হলেও তার রাজনৈতিক জীবন ধীরে ধীরে রূপ নেয় গণতন্ত্র রক্ষার এক অদম্য যাত্রায়। বহু হামলা-মামলা, নির্যাতন ও কারাভোগ পেরিয়েও তিনি আজও দলের তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতি পর্যন্ত এক অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে আছেন।
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের রাজনীতির শুরু ছাত্রজীবনে। ছাত্রদল করতে করতেই তিনি রাজপথে সংগ্রামী চরিত্র গড়ে তোলেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখে তিনি তরুণ কর্মীদের মাঝে এক দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় দেন। তখন থেকেই তার মধ্যে দেখা যায় দৃঢ়তা, সাহস আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব। সময়ের সাথে সাথে তিনি হয়ে ওঠেন জেলা বিএনপির নির্ভরযোগ্য নেতা।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলমগীর হোসেন ছিলেন নির্যাতনের শিকার। একের পর এক মিথ্যা মামলা, হামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন তিনি। একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে কাটিয়েছেন দীর্ঘ সময়। কারাগারে থাকাকালীনও তিনি হাল ছাড়েননি, বরং নেতাকর্মীদের সাহস যুগিয়েছেন। তার এই অটল মনোভাব কর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে দেয় নতুন উদ্দীপনা।
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন শুধু একজন সাংগঠনিক নেতা নন তিনি কর্মীদের অভিভাবকও। হামলার শিকার কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, আইনি সহায়তা করা কিংবা পারিবারিক কষ্ট ভাগ করে নেওয়া সবকিছুতেই তিনি ছিলেন অগ্রণী।
এক কর্মীর ভাষায়, আমরা যখন নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তখন আলমগীর ভাই-ই প্রথম আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার সাহসই আমাদের বারবার রাজপথে ফিরিয়ে এনেছে।
রাজনীতি তার কাছে ছিল কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। তার কথায়, ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়ে দেশের ক্ষতি বড়। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে না আনলে শান্তি নেই।
শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকলেও তিনি সর্বদা সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সততা, মানবিকতা ও ত্যাগের এই সমন্বয় তাকে আলাদা করে তুলেছে।
পিরোজপুরের রাজনীতিতে তৃণমূল কর্মীদের কাছে তিনি এক অটল ভরসা। যখন আন্দোলন থমকে যায়, তখন আলমগীর হোসেন সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে কর্মীদের সাহস দেন। তার দৃঢ় নেতৃত্বে একাধিক সংকট উত্তরণ করেছে জেলা বিএনপি।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন আগামী দিনগুলোতেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবেন। তার মতো ত্যাগী নেতার হাত ধরেই বিএনপি সংগঠিত হয়ে নতুন যুগের সূচনা করবে।