পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার নদীভাঙন কবলিত আমড়াজুড়ী ইউনিয়ন ও তৎসংলগ্ন এলাকার নদীভাঙন রোধে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
নদীভাঙনের বিষয়টি পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন-এর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের অংশ হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
শনিবার (১৩জুন) দুপুর ১২টায় ভিডিও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সোনাকুর ফেরিঘাট ও তৎসংলগ্ন এলাকা, গন্ধর্ব জানকীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা এবং হরিণধারা খেয়াঘাটে জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর।
উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, “নদীভাঙনের কারণে মানুষের জানমাল ও বসতভিটার ক্ষয়ক্ষতি রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে সুরক্ষিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণের স্বার্থে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হবে।
আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এটি কেবল একটি সাময়িক ব্যবস্থা নয়। আমরা স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ব্লক নির্মাণের মাধ্যমে টেকসই নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এই এলাকার কোনো মানুষকে নদীভাঙনের ভয়ে দিন কাটাতে হবে না—এটাই আমাদের লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান, পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মোঃ রাশেদ খান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান নিকসন, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় নদীভাঙন কবলিত এলাকার শত শত মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে তিনটি স্পটে মোট ২৬০ মিটার এলাকাজুড়ে জিও ব্যাগ ফেলা হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ টাকা। কাজ সম্পন্ন হলে ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা ফেরিঘাট, খেয়াঘাট, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নদীভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কাউখালী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা থেকে উপকৃত হবে উপজেলার হাজারো মানুষ এবং রক্ষা পাবে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনবসতি।