জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুরের দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি তদন্ত শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর–৪ (সরিষাবাড়ী উপজেলা) এবং জামালপুর–২ (ইসলামপুর উপজেলা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ও কার্যক্রমে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো অভিযোগগুলো তদন্তযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
জামালপুর–৪ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৪ এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২০ লঙ্ঘনের অভিযোগ গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় উত্থাপিত হয়। অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফরিদুল কবীর শামীমের পক্ষে তাঁর ছোট ভাই প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি প্রাথমিক যাচাই শেষে অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং দাখিল করা ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আচরণবিধিমালা, ২০২০–এর বিধি ৮ ও বিধি ৯ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ২৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জামালপুর–২ আসনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২২ লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ছামিউল হক ফারুকীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, যা আচরণবিধিমালা, ২০২২–এর বিধি ৬ ও বিধি ৮ লঙ্ঘনের শামিল।
নূরুল ইসলাম সরকার নামের এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগের সঙ্গে ভিডিও প্রমাণ দাখিল করেন। প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগটি তদন্তযোগ্য বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট তারিখে কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ হাজির হতে বলা হয়েছে।
উভয় নোটিশের অনুলিপি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রমাণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।