সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম ও গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, “অতীতে বাঁধ নির্মাণে অনেক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে বর্তমানে আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাঁধ নির্মাণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছি।”
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলা এলাকার বিভিন্ন ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) ও ঠিকাদারদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সরাসরি খোঁজখবর নেন। তিনি মাঠ পর্যায়ে কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এই ফসলরক্ষা বাঁধগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ডুবন্ত বাঁধগুলো প্রতিবছর যথাসময়ে সংস্কার ও মেরামতের ফলে এই অঞ্চলে উৎপাদিত শস্যের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ আজ যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, তাতে হাওরাঞ্চল বিশাল ভূমিকা রাখছে। এজন্যই আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”
নির্বাচিত সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় হাওরের মানুষের খোঁজখবর রাখছেন। আমরা দায়িত্ব নিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি—এটি আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। বাঁধের কাজ যেন প্রতি বছর স্বচ্ছতার সাথে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়, সেদিকে আমরা তীক্ষ্ণ নজর রাখছি।”
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নূরুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাড. আব্দুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলেন এবং পানি আসার আগেই বাঁধের কাজ টেকসইভাবে শেষ করার আশ্বাস দেন।