খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউপির বেতবুনিয়া (কুচিয়া বাঁধ) এলাকা থেকে মাদকসহ আয়ুব আলী (৪২) নামে এক কথিত মাদক কারবারিকে মাদক সহ এলাকাবাসী হাতে নাতে আটকের পর ইউনিয়ন চৌকিদারের কাছে সোপর্দ করলেও তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সোলাদানা ইউপির বেতুনিয়া কুচিয়া বাঁধ এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আয়ুব আলী নামে এক ব্যক্তিকে ২১ পুরিয়া মাদকদ্রব্যসহ আটক করেন এলাকাবাসী। পরে তাকে ইউনিয়নের চৌকিদার শওকতের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যাতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তবে কিছু সময় পর ওই ব্যক্তিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, অর্থের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কি না?
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আটক ব্যক্তিকে জনসম্মুখেই চৌকিদারের কাছে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি কীভাবে মুক্ত হলেন বা কোথায় গেলেন সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে সন্দেহ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চৌকিদার শওকত দাবি করেন, আটক ব্যক্তি তার হেফাজত থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। এছাড়াও তিনি তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আটক ব্যক্তি সত্যিই পালিয়ে গেছে নাকি অন্য কোনো কারণে মুক্তি পেয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আয়ুব আলী জানান, আমরা ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই চৌকিদারের কাছ থেকে কৌশলে পালিয়েছে মাদক কারবারি। পরে শুধুমাত্র মাদক জব্দ করে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে ধ্বংসের জন্য পাঠানো হয়েছে।