প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পরিচয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কাঙ্ক্ষিত স্থানে বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তিনি একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার উয়াইল গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। বর্তমানে তিনি সাভারের জালেশ্বর রাঢীবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ঢাকার সাভারের রাঢীবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম জানান, আব্দুল্লাহ আল মামুন বিভিন্ন সময়ে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব, সাংবাদিক এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের তদবির, বদলি ও নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করতেন। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের পর দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেও তিনি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেন।
তিনি আরও জানান, গত ১৮ মে প্রতারক মামুন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোন করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে পরিচয় দেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ জানতে পেরে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। পরে মানিকগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করে।
এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্র, ইংরেজিতে “PRESS” লেখা একটি জিপ গাড়ি, “বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট” সম্বলিত আইনজীবীর লিফলেট এবং জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিলের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়। এ প্রতারণার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই চেক জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাবনার বেড়া থানা এবং রাজধানীর তেজগাঁও থানার দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও জরিমানার রায় হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখালেও এখন পর্যন্ত কারও ক্ষেত্রে তিনি সফল হননি।