ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার ১২ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মুঞ্জুর করেছে আদালত।
ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহাদাত হোসেন আজ সোমবার দুপুরে এ আদেশ দেন বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক শেখ মোস্তাছিনুর রহমান জানিয়েছেন।
তিনদিনের রিমান্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আশিকুর রহমান (২৫) কাইয়ুম (২৫), মো. লিমন সরকার (১৯), মো. তারেক হোসেন (১৯), মো. মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮), মো. মিরাজ হোসেন আকন (৪৬), মো. আজমল হাসান সগীর (২৬), মো. শাহিন মিয়া (১৯) ও মো. নাজমুল (২১)।
পুলিশ পরিদর্শক মোস্তাছিনুর বলেন, পুলিশ গ্রেপ্তার ১২ আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। পরে বিচারক প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ড আদেশ দেন।
গত (১৮ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকায় ‘পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কোম্পানির’ শ্রমিক ২৮ বছর বয়সী দিপুকে দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর তার লাশ গাছের ডালের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে রাতে অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। দিপু তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে তিনি এই কোম্পানিতে কাজ করছিলেন।
দীপুর ভাই বাদি হয়ে এ ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। সেই মামলায় র্যাব-১৪ সাত জনকে এবং পুলিশ আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। কেন ওই যুবককে পুলিশের হাতে না দিয়ে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
নিহত দীপুর বাবা রবি চন্দ্র দাসের অভিযোগ, “উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে দিপুকে মিথ্যা অপবাদে হত্যা করা হয়েছে।” দীপুর বোন চম্পা দাস বলছেন, “দিপু শিক্ষিত এবং সচেতন ছিলেন। তিনি এমন কাজ (ধর্ম অবমাননা) করতে পারেন না।”