সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ থেকে:
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদীর জল বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনে বিলীনের পথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাট-বাজার আশ্রয় কেন্দ্রসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হবার আগেই উপজেলার বাঁচা মারা ও চরকাটারি ইউনিয়নে যমুনা নদীর পাড় এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে বাঁচামারা মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়-মহাবিদ্যালয়, আশ্রয় কেন্দ্রসহ যমুনা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থান। সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জেলার দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদী পারের বাঁচামারা ও চরকাটারি ইউনিয়নের বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তীব্র নদী ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় গ্রামের নদীর পাড় এলাকায় বিশাল পাড়ালের সৃষ্টি হয়ে ভয়াবহ অবস্থায় আছে। ফলে গ্রামবাসীরা অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এবার বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ভাঙতে শুরু করেছে। বর্ষায় নদীর জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক আকারে ভাঙনের সম্ভাবনা রয়েছে। যা শত চেষ্টা করেও ভাঙন রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আগেই ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান স্থানীয়রা। কাঁঠালতলা গ্রামের সামসুদ্দীন জানান, ভাঙন কবলিত চরকাটারি ইউনিয়নের কাঁঠালতলা এলাকায় নদীর স্রোত এসব গ্রামের নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ইউনিয়নের অনেকের বাড়ি ঘর ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান, এ বছর বাঁচামারা বাজারে নদী ভাঙন সর্বকালের ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এ বছর বর্ষায় ঝল বাড়ার সময় যেভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে, তা বিগত সময়ে দেখা যায়নি। এবার বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে জল বৃদ্ধির সময় বাঁচামারা হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও সাময়িক আশ্রয় কেন্দ্র এবং বাগষাইটা, চরকাটারি ইউনিয়নের কাঁঠালতলা গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদী ভাঙনের কারণে আমরা আতংকের মধ্যে রয়েছি। নদীর পাড় দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী শাসন করলে হয়তো নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে। তা না হলে পূর্ব পুরুষের ভিটাবাড়ি, জায়গা জমি সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। অবশেষে গৃহহীন হয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়ে বসবাস করতে হবে। দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম রাজা বলেন, এ বছর বর্ষার শুরুতেই উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, আশ্রয় কেন্দ্র, মাদ্রাসা এবং চরকাটারি ইউনিয়নের কাঁঠালতলা এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমি ইতোমধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত নদী ভাঙন রোধ করতে না পারলে লাখ লাখ টাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, সাময়িক আশ্রয় কেন্দ্র নদী গর্ভে চলে যাবে। এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন জানান, দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা এবং চরকাটারি ইউনিয়নের নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় এমপির সঙ্গে কথা হয়েছে। ডিজি স্যারের সঙ্গে কথা বলে দুই তিন দিনের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।