বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সাদুল্লাপুর বটতলা গ্রামে এখন কেবল কান্নার রোল। প্রবাসী ইদরিস আলীর পরিবারে স্বপ্নভরা দিনগুলো মুহূর্তেই অন্ধকারে ঢেকে গেছে। মা রানী বেগম (৪০) ও কলেজছাত্র ছেলে ইমরান হোসেন (১৮) কে হত্যা করা হয়েছে নৃশংসভাবে। অভিযোগের তীর উঠেছে তাঁদের এক আত্মীয়ের দিকেই।
নিহত রানী বেগমের বাবা শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে জিসান (২০) নামের এক যুবককে যিনি নিহত রানী বেগমের মামাতো ভাই। এছাড়া অজ্ঞাত আরও দুই–তিনজন সহযোগীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন,“মূল আসামি জিসান পারিবারিক আত্মীয়। তাঁকে ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে নেমেছে। তদন্তে নতুন তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে।” গ্রেফতার হলেই জোড়া খুনের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা সহজ হবে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগেই এক কনসার্টে যাওয়ার জন্য ইমরানের মোটরসাইকেল চান জিসান। মোটরসাইকেল না দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং বাড়ির ফটকে ভাঙচুর চালান। সেখান থেকেই জমতে থাকে প্রতিহিংসার আগুন।
সোমবার রাত ১০টার পর ইমরান শহর থেকে বাড়ি ফেরেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফটকে কড়া নাড়েন জিসান ও তাঁর সহযোগীরা। রানী বেগম দরজা খুলতেই তারা ভেতরে প্রবেশ করে।
পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে ইমরান ও তাঁর মাকে। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। হত্যার পর ইমরানের মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন এবং রানী বেগমের ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা।
৯৯৯–এ খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, মোবাইল কললিস্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গ্রামবাসী এ হত্যাকাণ্ডে শোকে স্তব্ধ। অনেকে বলছেন, আত্মীয়ের হাতে আত্মীয় খুন হওয়া বিশ্বাসঘাতকতার চরম উদাহরণ। গ্রামবাসী বলছেন, “একটা মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে যদি এমন হত্যাকাণ্ড হয়, তাহলে মানুষ মানুষকে আর কিসের ভরসায় বিশ্বাস করবে?”
শিবগঞ্জের এ হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের জন্য সতর্কবার্তা। আত্মীয়তার নামে যখন প্রতিশোধ, হিংসা ও লোভ প্রবল হয়ে ওঠে, তখন বিশ্বাস ও মানবিকতাই রক্তাক্ত হয়ে যায়। দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।