সরকারী উদ্যোগহীনতার কারণে উপজেলার সব চেয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত এলাকা হাজারীখিল অভয়ারণ্যকে পর্যটন কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে না।
২০২৪ সালে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন থেকে এ পর্যটন কেন্দ্র ঘোষনার জন্য পর্যটন মন্ত্রনালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে পরবর্তীতে “না” সুচক জবাব দেয়।
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার উত্তরে রামগড়-সীতাকুণ্ড বনাঞ্চলের মাঝখানে প্রায় ৩’শ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত ফটিকছড়ি হাজারিখিল অভয়ারণ্য প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য প্রকাশ করে। বিরল প্রজাতির বৃক্ষ ও প্রাণীর আবাসস্থল হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ আগস্ট এই বনাঞ্চলকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এই অভয়ারণ্যে প্রায় ২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১২৩ প্রজাতির পাখি, ৮ প্রজাতির উভচর, ২৫ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ২৫০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণী ও পাখির মধ্যে রয়েছে বানর, হনুমান, মায়া হরিণ, মেছো বাঘ, বিলুপ্তপ্রায় বনছাগল, হুদহুদ পাখি, নীলকান্ত, বেঘবৌ, আবাবিল, কাউ ধনেশ ইত্যাদি।
হাজারিখিল অভয়ারণ্যের শান্ত ও নির্জন পরিবেশে ক্যাম্পিং করার পাশাপাশি চা-বাগানের ট্রি অ্যাক্টিভিটিজে অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে প্রবেশের ফি জনপ্রতি ১০০ টাকা। এছাড়া, প্রকৃতির মোহনীয় রূপ উপভোগ করতে চাইলে হাজারিখিল ট্রেইল ঘুরে দেখতে পাওয়া যায়। ঝিরিপথ ও জলপ্রপাতের ভেতর দিয়ে ৭-৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্রেইল কালাপানি ঝর্ণায় গিয়ে শেষ হয়।
হাজারিখিল অভয়ারণ্যে যেতে হলে প্রথমে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে বাসে ফটিকছড়ি এসে সিএনজি নিয়ে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরত্বে হাজারিখিল পৌঁছানো সম্ভব।
ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সৌদিয়া, ইউনিক, টিআর ট্রাভেলস, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী, সোহাগ, এস. আলমসহ বিভিন্ন পরিবহনের এসি ও নন-এসি বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। প্রতি সিটের ভাড়া ৬৫০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে।
ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পর্যটক এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী এবং চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনে চট্টগ্রাম যাওয়ার সহজ সুযোগ রয়েছে। আসনভেদে ট্রেনের ভাড়া ৪০৫ থেকে ১৩৯৮ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি চট্টগ্রামে ফ্লাইট পরিচালনা করে বেশ কিছু বিমান সংস্থা।
হাজারিখিল অভয়ারণ্যে ক্যাম্পিং করার সুযোগ রয়েছে। ক্যাম্পিং না করতে চাইলে চট্টগ্রামের স্টেশন রোড, জিইসি মোড় বা আগ্রাবাদ এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল স্টার পার্ক, ডায়মন্ড পার্ক, মিসখা, হিলটন সিটি, এশিয়ান এসআর, প্যারামাউন্ট, সাফিনা, সিলমন ইত্যাদি।
অভয়ারণ্যে অবস্থিত ভাতঘরে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। চাইলে কাছের বিবির হাট ও যাওয়ার পথে নাজিরহাট গিয়েও খাবার খাওায়ার ব্যবস্তা রয়েছে । এছাড়া চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি মাংস এবং কালা ভুনা অবশ্যই উপভোগ করার মত।
হাজারিখিল ভ্রমণের পাশাপাশি কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি, ফয়েজ লেক, মহামায়া লেক, জাম্বুরি পার্ক, চন্দ্রনাথ পাহাড়, খৈয়াছড়া ঝর্ণাসহ অন্যান্য আকর্ষণীয় জায়গাগুলোও পর্ঘুযবেক্ষন করা যায়।