সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ‘দুই প্রতিবন্ধীকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন’ কাটানো সেই বৃদ্ধা জোবেদা একটি সেমিপাকা রঙিন টিনের ঘর নির্মাণ করে দিলেন সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস।
গত ৮ অক্টোবর ‘দুই প্রতিবন্ধীকে নিয়ে বৃদ্ধা জোবেদার মানবেতর জীবনযাপন’ শিরোনামে দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন প্রত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি সিরাজগঞ্জের মানবতার ফেরিওয়ালা মামুন বিশ্বাসের নজরে এলে তিনি ওই পরিবারকে সাহায্যের জন্য একটি ফেসবুক পোস্ট করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই টাকার ব্যবস্থা হলে একটি টিনের মেঝে পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়।
বৃদ্ধা জোবেদা খাতুন বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর মামুন বিশ্বাস আমার ঘরটি দেখে যায়। তার দুদিন পর থেকেই টিন, সিমেন্টের খুঁটি, কাঠ ও রঙিন টিন নিয়ে এসে ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু করে। ঘরের মধ্যেই একটি বাথরুম ও নলকূপের ব্যবস্থাও করে দিয়েছে। এসব পেয়ে আমি অনেক খুশি। এখন আর বৃষ্টি হলে আমার ঘরে পানি ঢুকবে না। শীত কিংবা বর্ষাতে আর কষ্ট করতে হবে না। কখনও ভাবিনি আমার দুই পাগলদের থাকার জন্য নতুন ঘর হবে। এত তাড়াতাড়ি ঘর পেয়ে তিনি সহযোগীদের জন্য দোয়া করেন।
এ প্রসঙ্গে সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস বলেন, বেশ কয়েক দিন আগে গণমাধ্যমে বৃদ্ধ জোবেদা তার প্রতিবন্ধী নাতি ও মেয়েকে নিয়ে খুবই অসহায় জীবন-যাপন করছিল জরাজীর্ণ একটি ঘরে। সেই সংবাদটি দেখার পর সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের ভোগোলমান গ্রামে আসি। তার অবস্থা দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) একটা পোস্ট করলে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকার ব্যবস্থা হয়। সেই টাকা দিয়ে মুলতঃ এই রঙিন টিনের সেমিপাকা ঘর, বাথরুম ও একটি নলকূপ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, একজন মানুষ একটু ভালো থাকবে সেই জন্য কিন্তু আমাদের চেষ্টা। দীর্ঘ কয়েকদিন স্থানীয় সেচ্ছাসেবী জিনাহ প্রচুর পরিশ্রম করেছে। আমরাও সার্বিক সহযোগিতা করেছি যাতে জোবেদা খালার শেষ জীবনে যেন একটু পরিবর্তন আসে। একটু ভালো ভাবে, আরামে ঘুমাতে পারে। যার জন্য এ প্রচেষ্টা। জোবেদা খালার মুখে হাসি ফুটিয়েছেন ও রঙিন ঘরে এখন ঘুমাতে পারেন। আর কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি যে সকল ভাই-বোন দেশ এবং দেশের বাহিরে থেকে টাকা পাঠিয়েছেন তাদের প্রতি।