জেলার প্রাচীন পৌরসভা বগুড়া বর্তমানে তীব্র অবকাঠামোগত সংকটে জর্জরিত। ২১ ওয়ার্ডের এই পৌরসভা প্রশাসনিকভাবে মহানগর ঘোষণার অপেক্ষায় থাকলেও রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল চিত্র সেই স্বপ্নকে ম্লান করছে। চলতি বর্ষার ভারী বৃষ্টিপাতে এ সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
শহরের বাদুরতলা, চক সুত্রাপুর, চেলোপাড়া, নাটাইপাড়া, খান্দার, সেউজগাড়ি, বৃন্দাবনপাড়া, আটাপাড়া, জহুরুল নগর ও জামিলনগরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এতে রিকশা, ভ্যান, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। অপরদিকে ড্রেন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমছে। ড্রেনের নোংরা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চলাচলে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি জরুরি রোগী পরিবহনে বিঘ্ন ব্যবসা ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পানি জমে পরিবেশ দূষণ ও রোগবালাই বৃদ্ধি হয়েছে।
পৌর প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ উন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে অন্তর্বর্তীকালীন সমাধান হিসেবে প্যাচওয়ার্ক শুরু করা হবে।
পৌর প্রশাসক মাসুম আলী বেগ বলেন, “আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। শিগগিরই রাস্তা ও ড্রেন সংস্কারের কাজ শুরু হবে। বর্ষার কারণে কিছু কাজ বিলম্বিত হলেও জরুরি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।”
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জি. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, চলতি অর্থবছরে সাতমাথা থেকে ফটকি ব্রিজ এবং সাতমাথা থেকে বেজোড়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণে ৫০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, যার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গত অর্থবছরে ৬ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা হয়।
তিনি বলেন, “বগুড়া পৌর এলাকায় মোট ১,৪৫০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার ভালো অবস্থায় আছে, বাকিগুলোর অবস্থা নাজুক। যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা দিয়ে পুরো এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য সরকারের বিশেষ নজর জরুরি।” বর্তমানে পৌর এলাকায় প্রায় ২০০টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। তবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু প্রকল্পের কাজ থেমে আছে। দ্রুত কাজ শেষ হলে নাগরিক ভোগান্তি কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।