প্রান্তিক মানুষের ভূমি সেবা প্রাপ্তির অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলা ভূমি অফিস। ভূমি সেবা প্রাপ্তিতে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় যেসব ডিজিটাল সেবা দিয়েছে তার মধ্যে ই-নামজারি সেবা অন্যতম।
বর্তমানে ভূমি অফিসে নামজারি সেবা ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এসব উদ্যোগ সাধারণ জনগণকে সহজে ভূমি সেবা প্রাপ্তিতে সহায়তা করছে।
আর এসব উদ্যোগ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে। উপজেলা ভূমি অফিসে আসা সেবা প্রার্থীদের মধ্যে শতকরা ৭০ শতাংশ আসেন ই-নামজারি সেবা নিতে।
তাই ই-নামজারি সেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে (land.gov.bd) এলাকাভিত্তিক নামজারি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করার ব্যবস্থা করেছেন।
দুর্গাপুর উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক সেবা প্রার্থী ই-নামজারি সেবা গ্রহণে এ ভূমি অফিসে আসেন। হয়রানি ছাড়া সেবা পেয়ে তারা খুব খুশি ও সন্তুষ্ট।
উপজেলা ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা ঝালুকা গ্রামের সোহরাফ আলী মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ই-নামজারি করতে পেরে আবেগ আপ্লুত হয়ে জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে নামজারি আবেদন করেন। এরপর মোবাইলে আসা এসএমএস অনুযায়ী তিনি ৭ তারিখ শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তার ই-নামজারি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যায়। অতীতের হয়রানির ঘটনা এখন ইতিহাস। খুব সহজেই এই ভূমি অফিসে সব ধরনের সেবা পাওয়া যায়।
প্রাপ্ত তথ্যচিত্র অনুযায়ী রাজশাহী জেলার গড় নিষ্পত্তি দিনের ভিত্তিতে শীর্ষ অবস্থানে আছেন দুর্গাপুর উপজেলা ভূমি অফিস। এ বছর তথ্য অনুযায়ী দুর্গাপুর উপজেলায় গড় নিষ্পত্তির সময় ১১ দিন যা রাজশাহী জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম। বিগত বছর থেকে বরাবরি দুর্গাপুর উপজেলা গড় নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রথম স্থানে রয়েছে। ই-নামজারি সেবা সহজীকরণে ও জনগণকে স্বল্পতম সময়ে এ সেবা দিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও অতিরিক্ত দায়ীত্বে সহকারি কমিশানার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও অতিরিক্ত দায়ীত্বে সহকারি কমিশানার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা জনগণকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। এটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হয়রানিমুক্তভাবে সেবা দেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।