মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
কালকিনিতে সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা সরদার গ্রেপ্তার উলিপুরে আবারো তেঁতুলগাছের মগডালে আলোচিত সেই গৃহবধু চাঁপাইনবাবগঞ্জে সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে চোখের লেন্সসহ ছানি অপারেশনের উদ্বোধন জঙ্গল সলিমপুরে উন্নয়নের নতুন অধ্যায়—সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে সড়ক নির্মাণ কাজ সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০: বসতবাড়িতে হামলা সালথায় দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সাপাহারে সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে মতবিনিময় সভা বরগুনায় ব্যবসায়ীর মস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার শ্রীপুরে আ’লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আনিছের জানাজায় মানুষের ঢল সংসদে তিতাসে খাদ্য গুদাম নির্মাণের দাবি উত্থাপন করলেন অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজনের সঙ্গে ত্রিশালে বিক্রি হচ্ছে পতাকা ও জার্সি বিক্রি রাস্তার উপর ময়লারস্তুপ, ময়লা পানিতে সয়লাব, পথচারী চলাচলে ভোগান্তি, পৌর কর্তৃপক্ষ নীরব নান্দাইলে ওয়ার্ল্ড ভিশনের গাছের চারা বিতরণ চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতা আটক, আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ ক্রিকেটার নাসির-তামিমার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি: রায়ের আগে আসামিপক্ষের ‘নিশ্চিত খালাস’ প্রচারণায় জনমনে বিভ্রান্তির তীব্র নিন্দা গুলিবিদ্ধ সুজনের পাশে দাঁড়ালেন ঢাকার ডিসি নালিতাবাড়ীতে ২ দিনের ব্যবধানে ৫ মাদরাসা ছাত্র নিখোঁজ, এলাকায় আতঙ্ক সরিষাবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু জামালপুরে জজের সহায়তায় হয়রানির অভিযোগ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন ভেঙে পড়া গোয়াতলা বেইলি ব্রিজ পরিদর্শনে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স গোয়াইনঘাটে তিনদিন ব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন পাইকগাছায় স্ত্রীর সামনে প্রসাব করার প্রতিবাদে প্রকাশ্য জনসম্মুখে নৃশংসভাবে যুবককে হত্যা কৃষিপণ্য রপ্তানিতে গোলকধাঁধা: আমলাতন্ত্র নাকি বাস্তব সংকট? বাংলাদেশে গৃহপালিত প্রাণীতে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি: বাকৃবির গবেষণা গৃহবধূকে যৌন নিপীড়নের মামলায় গ্রেপ্তার যুবক একদিন পরই জামিনে মুক্ত ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ফের অবৈধ বালু উত্তোলনের শঙ্কা, নদীভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী রেমিট্যান্স সমৃদ্ধ ফটিকছড়িতে নেই কোন সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ফটিকছড়ির বনাঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ কাঠ জব্দ চট্টগ্রামে ১১দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি বন্দরে লাশ নিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও, দারোগা ক্লোজড

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস : ফার্মাসিস্টদের হাতে স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যত

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:০৭ অপরাহ্ন

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস প্রতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয়। এই দিনটি ফার্মাসিস্টদের পেশাগত অবদান, দায়িত্ব ও সমাজে তাদের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেয়। ২০২৫ সালে দিবসটি বাংলাদেশের ফার্মেসি পেশার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ফার্মাসিস্টদের পেশাগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করছে।

ফার্মাসিস্টরা শুধু ওষুধ বিক্রেতা নয়; তারা রোগীর নিরাপদ চিকিৎসা, ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা, উন্নয়ন, এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন (FIP) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বারবার ফার্মাসিস্টদের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

> ফার্মেসি শিক্ষা ও পেশার বর্তমান চিত্র

বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩টি সরকারি ও ৩০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি শিক্ষা প্রদান করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর আনুমানিক ১,৪৫০–১,৫০০ জন গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট স্নাতক হন। তবে, কর্মসংস্থান সীমিত হওয়ায় প্রায় ৯৮০ জন ফার্মাসিস্ট স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিয়োজিত হন, বাকিরা বেকার থাকেন বা অন্যান্য পেশায় চলে যান।

ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (PCB) ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখের বেশি ফার্মাসিস্টকে নিবন্ধিত করেছে। যদিও নিবন্ধন সংখ্যা অনেক, কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ ফার্মাসিস্ট হাসপাতাল বা ক্লিনিক্যাল ফার্মেসিতে কর্মরত নন। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

ফার্মাসিস্টদের একটি বড় অংশ কমিউনিটি ফার্মেসি, বেসরকারি হাসপাতাল, ওষুধ উৎপাদন শিল্প এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত। তাদের পেশাগত দক্ষতা, সততা ও গবেষণামূলক অবদান বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছে।

> বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের উন্নয়ন

বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প গত দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। ২০২৪ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল বাজারের আকার ৩.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল, যা ১৭.৭% প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। দেশের ৯৮% ওষুধ চাহিদা স্থানীয়ভাবে পূরণ হয় এবং ১৮২টি দেশে রপ্তানি করা হয়। ২০২৪ সালের প্রথম দশ মাসে ফার্মাসিউটিক্যাল রপ্তানি ৩.৪৬% বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৭.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে।

ফার্মাসিস্টরা এই শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, বিশেষ করে: * ওষুধ উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ * গবেষণা ও উন্নয়ন
* উৎপাদন পরিকল্পনা এবং বিপণন * ডিসপেন্সিং ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ারস * বিজনেজ ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক রপ্তানিফার্মাসিস্টদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বৈশ্বিক মানে প্রতিযোগিতামূলক। এই শিল্পের উন্নয়নে বিশেষভাবে A-গ্রেড ফার্মাসিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

> ফার্মাসিস্টদের পেশাগত ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ

ফার্মাসিস্টরা রোগীর নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে:

* ওষুধের সঠিক ব্যবহার নির্ধারণ * পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ডোজ নির্ধারণ * রোগীকে ওষুধ সম্পর্কিত পরামর্শ ও শিক্ষা প্রদান।

এছাড়া তারা হাসপাতাল, ক্লিনিক, কমিউনিটি ফার্মেসি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তবে, বাংলাদেশে অধিকাংশ ফার্মাসিস্ট ফ্যাক্টরি বা উৎপাদন ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসির উন্নয়নে এদের অংশগ্রহণ খুব কম।

উন্নত দেশগুলোতে A-গ্রেড ফার্মাসিস্টরা ডাক্তারদের পাশাপাশি রোগীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, ওষুধ ব্যবস্থাপনা ও রোগ নিরাময়ে সরাসরি অংশ নেন। WHO এবং FIP বারবার নির্দেশ করে যে, ফার্মাসিস্টরা স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রোগীদের নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করে।

> আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

বিশ্বব্যাপী ফার্মাসিস্টরা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ২০২৫ সালে FIP-এর থিম হলো “Pharmacy: Advancing Access, Care and Health”, যা ফার্মাসিস্টদের শিক্ষা, দক্ষতা ও পেশাগত অবদানকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেয়।

ফার্মাসিস্টরা নতুন ওষুধ আবিষ্কার, মান উন্নয়ন, জনসচেতনতা এবং রেগুলেটরি নিয়মাবলী নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আন্তর্জাতিক উদাহরণে দেখা যায়, উন্নত দেশগুলোতে ফার্মাসিস্টরা হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল সেটিংয়ে রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে থাকেন।

ফার্মাসিস্টদের দক্ষতা শুধুমাত্র রোগী সেবা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; তারা গবেষণা, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, এবং স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

> ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সুপারিশ

বাংলাদেশে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশসমূহ:

১. হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসিতে নিয়োগ বৃদ্ধি: রোগীর নিরাপদ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।

২. ফার্মেসি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন: আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করে দক্ষতা বৃদ্ধি।

৩. পেশাগত স্বীকৃতি ও মর্যাদা বৃদ্ধি: ফার্মাসিস্টদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া ও কর্মপ্রেরণা বৃদ্ধি।

৪. গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ: নতুন ওষুধ আবিষ্কার ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা।

৫. কমিউনিটি ফার্মেসি ও পাবলিক হেলথে ভূমিকা বৃদ্ধি: জনগণের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন।

পরিশেষে বলতে চাই,বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৫ শুধু একটি সাধারণ উদযাপন নয়; এটি ফার্মাসিস্টদের পেশাগত অবদান এবং স্বাস্থ্যসেবায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধির একটি অনন্য সুযোগ। বাংলাদেশের ফার্মাসিস্টরা শুধুমাত্র ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং তারা রোগীর নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করা, ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও উন্নয়ন, এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

ফার্মাসিস্টদের দক্ষতা, শিক্ষা এবং নিষ্ঠা দেশের ওষুধ শিল্প ও স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরও সমৃদ্ধ করছে। দেশের ফার্মাসিস্টরা বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, কমিউনিটি ফার্মেসি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে, তাদের কর্মসংস্থান এবং পেশাগত স্বীকৃতির সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই পূর্ণ মাত্রায় অবদান রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

যদি ফার্মাসিস্টদের মর্যাদা, কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়, তবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত আরও উন্নত ও কার্যকর হবে। বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সর্বজনীন করা এবং ফার্মাসিস্টদের পেশাগত গুরুত্বকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেওয়া। এটি একটি আহ্বান যে, ফার্মাসিস্টদের কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া সুস্থ সমাজ ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

লেখক, কলাম লেখক ও গবেষক
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি


এই বিভাগের আরো খবর