শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মানিকগঞ্জে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, গণধোলাইয়ে নিহত ২ ফুলপুরে জ্বালানি সরবরাহে বাধা, দুই মামলায় অর্থদণ্ড সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের চরম বিপর্যয়: চাহিদার অর্ধেকও মিলছে না, অন্ধকারে ৪ লাখ গ্রাহক কাপ্তাইয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নান্দাইলে গ্লোবাল ওয়ানের অর্থায়নে গরীব ও অসহায় পরিবারের মাঝে ১০০ টি টিউবওয়েল বিতরণ শেরপুরে ভাতিজার বিরুদ্ধে চাচাকে বাড়িছাড়া করার অভিযোগ ; ভূট্টা ক্ষেত লুট মুকসুদপুরে জমি বিরোধ ও রেস্টুরেন্ট স্থাপন নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সমাজ গঠনের মধ্যে দিয়েই রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হোক এই পাঠাগার: শাহজাহান চৌধুরী এমপি ঝালকাঠিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী ব্যবসায়ী আটক পাইকগাছায় নতুন মৎস্য আড়ৎ’র উদ্বোধন শ্মশান থেকে মাথার খুলি চুরির ঘটনায় ৩ হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার, খুলি উদ্ধার দুর্নীতির মামলায় সাবেক মেয়র রমজান আলী কারাগারে পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া ছাত্রীকে অপহরণের মূলহোতা নাঈম গ্রেফতার মুন্সীগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই যুবকের মৃত্যু লালমোহনে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে নাগরিক সংবর্ধনা নবীনগরে অটো-স্ট্যান্ডে জিবির নামে চাঁদা তোলা বন্ধ- ইজারা মওকুফ করায় সাংসদকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ র‍্যালি সুনামগঞ্জে খুশির জোয়ার: ‘দুর্নীতিবাজ’ ডিসির বিদায়ে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল আনোয়ারায় মাদকবিরোধী অভিযান: দেশীয় মদে জড়িত চারজন আটক বিদায়ের বেলায় অশ্রুসজল চোখ, স্বপ্নে ভরসা রেখে পথচলা রাজধানীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল জামালপুর সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩ লাখ টাকা প্রতারণা: চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার আলামত কাউখালীতে প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ উন্নয়নমূলক কোনো কাজে দুর্নীতি করলে তাকে ক্ষমা করা হবে না: গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সালথার ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার দাখিল পরিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠিত ভাণ্ডারিয়ায় বায়নের খাল কচুরিপানার দখলে ৪০ হাজার পরিবার নিত্য ব্যবহার্য পানি সংকটে বাড়ছে রোগব্যাধি সুনামগঞ্জে লক্ষ্য এখন বিষমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য কৃষি কিশোরগঞ্জে ধর্ষণ চুরি মামলার আসামী আটক নিজ স্ত্রীকে হত্যা করে দেহ খন্ডবিখন্ড,স্বামী গ্রেফতার  সরিষাবাড়ীতে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা -২০২৬ অনুষ্ঠিত নবীনগরে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে বর্ষবরণ উৎসব ও গণসংগীত অনুষ্ঠিত 

বিশ্ব হার্ট দিবস: হৃদয়কে ভালোবাসুন, জীবনকে নিরাপদ রাখুন

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:১০ অপরাহ্ন

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস। এটি শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্য সচেতনতা দিবস নয়, বরং মানবজাতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। আধুনিক যুগে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ সংক্রামক রোগ নয়, বরং হৃদরোগ বা কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হঠাৎ করেই মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে।

আশার কথা হলো, হৃদরোগের প্রায় ৮০% ঝুঁকি প্রতিরোধযোগ্য। নিয়মিত শরীরচর্চা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, মানসিক প্রশান্তি এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকা—এসবেই সুস্থ হৃদয় গড়ে তোলা সম্ভব। শিশু, কিশোর, তরুণ, নারী, পুরুষ এবং বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষই সচেতন জীবনযাপন করে হৃদরোগ থেকে রক্ষা পেতে পারে।

বিশ্ব হার্ট দিবস কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞানের নয়, পরিবার ও সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিজ্ঞার দিন। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সুস্থ হৃদয় মানেই সুস্থ জীবন।

> ইতিহাস ও তাৎপর্য

বিশ্ব হার্ট দিবস প্রথম পালিত হয় ২০০০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। এটি ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন (World Heart Federation) এর উদ্যোগে সূচিত হয়। শুরুতে এটি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রবিবার পালন করা হতো। তবে ২০১১ সাল থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরকে স্থায়ীভাবে “World Heart Day” হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতি বছর দিবসটির একটি নির্দিষ্ট থিম থাকে। ২০২৫ সালের থিম হলো—“My Heart, Your Heart, Our Future”। অর্থাৎ শুধুমাত্র নিজের নয়, পরিবারের, প্রতিবেশী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতার জন্য হৃদপিণ্ডকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এই দিবসের মাধ্যমে সবাইকে স্মরণ করানো হয়—হৃদরোগ প্রতিরোধ কেবল ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, বরং সামাজিক আন্দোলন। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, কমিউনিটি সেন্টার—সব জায়গায় সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে জীবন বাঁচানো সম্ভব।

> বৈশ্বিক চিত্র

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী— প্রতিবছর প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষ হৃদরোগে মারা যান, যার মধ্যে ৮৫% মৃত্যু হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণে। ২০২১ সালে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২০.৫ মিলিয়ন, যা বৈশ্বিক মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশ।
২০৫০ সালের মধ্যে হৃদরোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫.৬ মিলিয়ন ছাড়াতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬২০ মিলিয়ন মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত, অর্থাৎ পৃথিবীতে প্রতি তিনটি মৃত্যুর মধ্যে একটি ঘটে হৃদরোগে।মূল কারণগুলো হলো—দ্রুত নগরায়ণ, দীর্ঘ অফিসের সময়, মানসিক চাপ, প্রক্রিয়াজাত খাবারের অতিরিক্ত ব্যবহার। এছাড়া শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতের প্রজন্মও ঝুঁকিতে।

>> শিশুদের হার্ট সমস্যা

WHO অনুযায়ী— প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে ১ শিশু জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত। ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪,১৮,৩২৫৯ শিশু জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। শিশুদের মধ্যে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২,০৪,২২৩।

> শিশুদের প্রধান হৃদরোগের কারণ:

১. জন্মগত হৃদরোগ (Congenital Heart Disease): শিশুর জন্মের সময় থেকে হৃদযন্ত্রে থাকা গঠনগত ত্রুটি।

২. রিউমেটিক হার্ট ডিজিজ (Rheumatic Heart Disease): ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে হৃদযন্ত্রের ভ Valve ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।

৩. স্থূলতা (Obesity): অতিরিক্ত ওজন হৃদপাম্পের উপর চাপ সৃষ্টি করে, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

৪. উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension): শিশুর হৃদযন্ত্র দুর্বল করে এবং ভবিষ্যতে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৫. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: বেশি চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার হৃদরোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।আর এই কারণগুলো প্রতিরোধযোগ্য। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা শিশুদের সুস্থ হৃদয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

> বাংলাদেশের চিত্র

* বাংলাদেশও হৃদরোগ মহামারির বাইরে নয়।

* দেশীয় মোট মৃত্যুর ৩০–৩৪% হৃদরোগজনিত।

* শুধুমাত্র হার্ট অ্যাটাকই মৃত্যুর ১৭.৪৫% দায়ী।

* অ-সংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার ৬৭%, যেখানে হৃদরোগ প্রধান ভূমিকা রাখছে।

* প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ১০.৩২% মানুষ প্রথম হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে।

* শিশুদের মধ্যে হৃদরোগের চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ২০,০০০।

* প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১০ জন মানুষ হৃদরোগে মারা যায়। শহর ও গ্রামে সমানভাবে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং ধূমপান বৃদ্ধি পাচ্ছে।নারী, পুরুষ এবং শিশু—সবকেই লক্ষ্য করে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

> হৃদরোগের প্রধান কারণ

হৃদরোগকে বলা হয় লাইফস্টাইল ডিজিস। প্রধান কারণগুলো:

১. ধূমপান ও তামাক ব্যবহার – রক্তনালী দুর্বল করে, কোলেস্টেরল জমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

২. অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বি – উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল বাড়ায়। ফাস্টফুড ও প্রসেসড খাবার ক্ষতিকারক।

৩. স্থূলতা ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব – দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা কম হাঁটাহাঁটি হৃদপিণ্ড দুর্বল করে।

৪. উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস – নীরব ঘাতক, অনেক সময় উপসর্গ ছাড়া ক্ষতি করে।

৫. মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতি – দীর্ঘমেয়াদি চাপ রক্তচাপ বাড়ায়।

৬. অ্যালকোহল ও নেশাজাতীয় দ্রব্য – লিভার ও হৃদপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত করে।

> হৃদরোগের জটিলতা

যদি সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়া হয়, হৃদরোগ মারাত্মক জটিলতায় পরিণত হতে পারে: * হার্ট ফেইলিউর: হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে যায়

* স্ট্রোক: মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়

* হঠাৎ মৃত্যু (Sudden Cardiac Death)

* কিডনি ক্ষতি

* অ্যারিদমিয়া: হৃদস্পন্দনের অনিয়ম

এগুলো শুধুমাত্র জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে না, রোগীর দৈনন্দিন কাজকর্ম ও পরিবারকে মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রভাবিত করে।

> হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ

১. বুকের মাঝখানে চাপ, ব্যথা বা জ্বালাপোড়া

২. ব্যথা বাহু, ঘাড়, পিঠ বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া

৩. শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম ঝরা

৫. মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব

বিশেষ সতর্কতা: ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে উপসর্গ অনেক সময় হালকা থাকে।

> হৃদরোগ প্রতিরোধে ঘরোয়া পরামর্শ

১.শারীরিক পরিশ্রম:- * প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন * সাইক্লিং, সাঁতার, দৌড় বা হালকা ব্যায়াম করুন * লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন * শিশু ও কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিন

২. খাদ্যাভ্যাস:- * শাকসবজি, ফল, ডাল ও বাদাম বেশি খান * সপ্তাহে অন্তত ২ দিন মাছ খান * লবণ, চিনি ও তেল কম ব্যবহার করুন
* কোমলপানীয় ও ফাস্টফুড বর্জন করুন

৩. ধূমপান-মুক্ত জীবন :- * ধূমপান হৃদরোগের ঝুঁকি ২–৪ গুণ বাড়ায় * তামাক বর্জন করলে ১০ বছরের মধ্যে ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসে

৪.মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ :- * পর্যাপ্ত ঘুম (৭–৮ ঘণ্টা) নিন * ধ্যান, নামাজ, প্রার্থনা বা শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যায়াম করুন * অকারণে রাগ, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমান

৫.ওজন নিয়ন্ত্রণ :- * BMI ১৮.৫–২৪.৯ এর মধ্যে রাখুন * কোমরের অতিরিক্ত মেদ কমান

৬. নিজস্ব স্বাস্থ্য পরীক্ষা :- * ঘরে BP মেশিনে রক্তচাপ মাপুন * ডায়াবেটিস থাকলে গ্লুকোমিটার ব্যবহার করুন * বছরে অন্তত একবার কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন

৭ পানি ও পানীয় :- * প্রতিদিন ২–৩ লিটার পানি পান করুন * কোমলপানীয়, অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলুন

৮. পরিবেশ সচেতনতা :- * ধোঁয়া ও ধুলাবালি থেকে দূরে থাকুন * ঘরে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন

৯. সামাজিক সহযোগিতা :- * পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটুন * সমাজে স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রচার করুন

> কেন সচেতনতা জরুরি?

হৃদরোগ একবার হয়ে গেলে পুরোপুরি সারানো সম্ভব নয়। ওষুধ ও চিকিৎসা কেবল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই প্রতিরোধই একমাত্র কার্যকর উপায়।

গবেষণা বলছে—জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে হৃদরোগজনিত মৃত্যুহার ৫০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব। প্রতিদিনের ছোট অভ্যাস যেমন—খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম—এসবই ভবিষ্যতের জীবন রক্ষার হাতিয়ার।

পরিশেষে বলতে চাই,বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৫ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে—শিশু, নারী এবং পুরুষ সকলের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা অপরিহার্য। হৃদরোগের ঝুঁকি শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিশু ও কিশোররাও আজকাল অসুস্থ জীবনধারার কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক প্রশান্তি এবং ধূমপান-বর্জিত জীবন—এসবের মাধ্যমে আমরা আমাদের হৃদয় সুস্থ রাখতে পারি।

সুস্থ হৃদয় শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করে না, বরং পরিবারের সদস্যদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতাকেও নিশ্চিত করে। তাই আমাদের সকলের উচিত—নিজেদের সচেতন করা এবং আশেপাশের মানুষদেরও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।

আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক— নিয়মিত শরীরচর্চা করবো, দৈনন্দিন হাঁটা, সাঁতার বা হালকা ব্যায়াম নিশ্চিত করবো।পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাবো, প্রসেসড ফাস্টফুড থেকে দূরে থাকবো।
ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিত্যাগ করবো।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবো, পর্যাপ্ত ঘুম ও ধ্যান নিশ্চিত করবো।পরিবার ও সমাজকে স্বাস্থ্য সচেতনতার দিকে নিয়ে যাবো।সুস্থ হৃদয় মানেই সুস্থ জীবন। হৃদয় রক্ষা করা মানে নিজের, পরিবারের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন বাঁচানো। সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাই হৃদরোগ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।

লেখক,

চিকিৎসক, কলাম লেখক ও গবেষক
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি


এই বিভাগের আরো খবর