আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি–সোনাতলা) আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে এ আসনে মোট ৯ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেননি।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন দুই নেতা। তারা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম এবং বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহসানুল তৈয়ব জাকির। এর মধ্যে আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম গত ১৭ ডিসেম্বর বিএনপির
মনোনয়ন লাভ করেন। তিনি সোমবার দুপুরে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌসের কার্যালয়ে তার মনোনয়ন ফরম জমা দেন।
অন্যদিকে একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকিরকে গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রদান করা হয়। তিনি বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।
এদিন বিকেলে একই কার্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন তার মনোনয়ন ফরম জমা দেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সোনাতলা উপজেলা শাখার সভাপতি এবিএম মোস্তফা কামাল পাশা মনোনয়ন ফরম দাখিল করেন।
পাশাপাশি বগুড়া জেলা গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলি এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মো. আসাদুল হকও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন শাহাজাদী আলম লিপি। উল্লেখ্য, এ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী ৯ জনের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এ এস এম রফিকুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুল বাবু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম জমা দেননি।
বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন—জল্পনা তুঙ্গে বগুড়া-১ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিলকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহল বেড়েছে। একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় এবং তার একটি শক্ত সংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। কাজী রফিকুল ইসলাম – নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সভা–সমাবেশ, গণসংযোগ ও দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করার কাজ করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে , কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক কৌশলের ওপর ভিত্তি করেই শেষ পর্যন্ত বগুড়া-১ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। ফলে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে কে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন—তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে অপেক্ষা বাড়ছে।