ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ৩ নং তারাটী ইউনিয়নের তেরীপাড়া গ্রামে দুই খদ্দের সহ এক নারী আটকের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি দীর্ঘ ২০-৩০ বছরের পুঞ্জীভূত ঘৃণা ও গ্লানির এক চরম গণবিস্ফোরণ ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৮ ঘটিকায় এক তরুণীর আর্তনাদকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত দেহ ব্যবসায়ী ইলিছা ও তার স্বামী সবুর আলীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। স্থানীয় পুলিশের ওপর অনাস্থা জানিয়ে এলাকাবাসীর অনড় দাবির মুখে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ইলিছাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় এক নারী তার সন্তানকে নিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় সবুর আলী ও ইলিছার বাড়ি থেকে এক তরুণীকে আর্তচিৎকার করে দৌড়ে বেরিয়ে আসতে দেখেন। ওই তরুণী বাঁচার আকুতি জানিয়ে বলেন তাকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্ত মেম্বার পুত্র, ওই তরুণী এবং গৃহকর্ত্রী ইলিছা ও সবুরকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে কয়েকশ গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে ওই বাড়িতে চড়াও হয় এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
উত্তেজিত জনতা স্থানীয় থানা পুলিশকে বিশ্বাস করতে না পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) উপস্থিতি দাবি করেন। পরবর্তীতে ইউএনও’র নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতিতে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ অভিযুক্ত ইলিছা, তার স্বামী সবুর আলী, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কুষ্টিয়া ইউনিয়নের জনৈক মেম্বারের ছেলে এবং অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা ঐ তরুণীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইলিছার এই ঘৃণ্য ব্যবসার কারণে তেরীপাড়া গ্রামের নাম শুনলে মানুষ বাঁকা চোখে তাকায়। রিকশাওয়ালারাও ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে গ্রামবাসীকে লজ্জায় মাথা নিচু করতে হয়। এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশ বারবার এদের গ্রেপ্তার করলেও টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়, যার ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। এবার কয়েকশ মানুষের গণস্বাক্ষর সংবলিত স্ট্যাম্প নিয়ে তারা এই অভিযুক্ত পরিবারকে চিরতরে উচ্ছেদের সিদ্ধান্তে অটল।
ঘটনার বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, “বিষয়টি আমার পুরোপুরি জানা নেই, আপনি তদন্ত অফিসারের কাছ থেকে জানুন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতির জন্য ময়মনসিংহে আছি।
বর্তমানে তেরীপাড়া গ্রামবাসী এই ‘সামাজিক অভিশাপ’ থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে এবং ইলিছাসহ আটককৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কামনা করছেন।