শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা কে কেন্দ্র সংগঠিত সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের (৪২) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
মাতৃহীন রেজাউলের বয়োবৃদ্ধ বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ নির্বাক দৃষ্টিতে ছেলের কবরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। যেন চোখের জল শুকিয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহত জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের গোপালখিলা গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া। বাড়ির ভিতর থেকে মহিলাদের উচ্চ কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছিলো। আত্মীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বাড়িতে এসে খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন।
রেজাউলের বসত বাড়ির পাশেই কয়েকজন গোর খোদককে কবর খোঁড়ায় ব্যস্ত দেখা যায়। এদিকে সকাল ১১ টায় রেজাউলের বাড়িতে শান্তনা দিতে আসেন জেলা জামায়তের আমির হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, এই হত্যাকান্ডের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যেহেতু এই হত্যাকান্ডের ভিডিও ফুটেজ আছে। তাই আমরা ভিডিও দেখে হত্যা মামলা দায়ের করবো। প্রাথমিকভাবে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পরামর্শ নিয়ে কর্মসূচি গ্রহন করা হবে।
নিহত রেজাউল এর শশুর কাকিলাকুড়ার বাসিন্দা হাফেজ মো: আবুবকর বলেন, আমি হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসি চাই। উনার স্ত্রী ও ২ সন্তানকে এখন দেখবে কে। রেজাউলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বলেন, সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা জড়িত তাদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার চাই। এদিকে রেজাউলের নিহতের খবরে গড়জরিপা ইউনিয়নের গোপালখিলা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রেজাউলের ১ম জানাযা সম্পন্ন : শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের ১ম জানাযা নামাজ শ্রীবরদী সরকারের কলেজ মাঠে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার দ্বিতীয় জানাযা গোপালখিলা গ্রামের বাড়িতে রাত ৮ টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
জানাযা নামাজ উপলক্ষে শ্রীবরদী প্রশাসন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করে। চার প্লাটুন বিজিবি ও সেনাসদস্যরা টহল দেয়।
শেরপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে আরও অবনতি না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত সেনাসদস্যদের রাস্তায় টহল জোরদার করতে দেখা গেছে। এদিকে মূল সংঘর্ষস্থল ঝিনাইগাতীর অবস্থা বর্তমানে শান্ত রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঝিনাইগাতী উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছে। ফলে ঝিনাইগাতী বাজার এলাকা কার্যত শুনশান নীরবতা নেমে এসেছে। ঝিনাইগাতী বাজারে বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করেছেন।এঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জানান, এঘটনায় এখনও কোন মামলা রজু করা হয়নি। তবে পুলিশ তদন্ত অগ্রগতি করে রেখেছে। এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।