কর্ণফুলী নদীতে তেলবাহী লাইটার জাহাজে কর্মরত শ্রমিকদের পারাপার সেবায় নিয়োজিত সাম্পান শ্রমিকরা তাদের জীবিকা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে নিজেদের অধিকার রক্ষায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাঙ্গারচর ও পতেঙ্গা ওয়েল ট্যাংকার কর্মচারী পারাপার সাম্পান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংগঠনটি একটি সরকার স্বীকৃত শ্রমিক সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্ণফুলী নদীর ৭ নম্বর ঘাট থেকে ১১ নম্বর ঘাট পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে সাম্পান শ্রমিকরা তেলবাহী লাইটার জাহাজে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারাপার এবং জাহাজের রশি বাঁধার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা এই পেশায় নিয়োজিত ছিলেন এবং বর্তমানে তারাই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন।
শ্রমিকদের দাবি, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, আরএম-৩ ও আরএম-৪সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লাইটার জাহাজে তারা নিয়মিত সেবা দিয়ে থাকেন। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই পেশায় প্রতিদিন নদীর উত্তাল স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে কাজ করতে হয়। এই পেশার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৩০০টি পরিবার, যেখানে প্রায় এক হাজার শ্রমিক ও তাদের স্বজনের জীবিকা জড়িত।
তবে সম্প্রতি “খাজা শিপিং লাইন (রায়হান এন্টারপ্রাইজ) সি লিঃ” নামের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তাদের এই বৈধ পেশায় অবৈধ হস্তক্ষেপ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। শ্রমিক নেতারা বলেন, ওই সিন্ডিকেট শ্রমিকদের কাজে বাধা প্রদান, জোরপূর্বক চাঁদা দাবি, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে, শ্রমিকদের ধরে নিয়ে ইলেক্ট্রনিক শর্ট দিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এমনকি শ্রমিকদের ‘তেল চোর’ আখ্যা দিয়ে অপমান করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রায়হান, মো. শাহানুর ও সাজ্জদসহ ১০-১২ জনকে এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক কাজ বন্ধের চেষ্টা, নিয়মিত চাঁদা দাবি, শারীরিক হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি এবং এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এর আগে একাধিকবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং স্থানীয় প্রশাসন, ইপিজেড থানা, নৌ-পুলিশ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং শ্রমিকদের ওপর চাপ ও হুমকি বেড়েই চলেছে। এ প্রেক্ষাপটে শ্রমিক ইউনিয়ন পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়নের সভাপতি মো. রফিক ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওসমানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।